স্রেব্রেনিকা গণহত্যার ২৫তম বার্ষিকী পালন

বিশ্ব Tamalika Basu ১২-জুলাই-২০২০

১৯৯৫ স্রেব্রেনিয়া গণহত্যায় শিউরে উঠেছিল গোটা দুনিয়া। বসনিয়া মুসলিমদের ওপর সার্ব বাহিনীর এই নৃশংস হত্যালীলার প্রায় ২৫ বছর অতিক্রান্ত।  শনিবার ছিল স্রেব্রেনিকার ২৫তম বার্ষিকী। তাই শনিবার স্রেব্রেনিকার পোটোচারি কবরস্থান ও স্রেব্রেনিকা মেমোরিয়াল সেন্টারে নিহতদের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করতে রাজনীতিবিদ, সমাজবিদ, ধর্মীয় ও সামরিক ব্যক্তিত্ব, বিদেশি কূটনীতিক ও নিহতদের পরিবারবর্গ সহ বসনিয়ার নাগরিকরা জমায়েত করেছিলেন।

করোনা ভাইরাসের আবহে  জন্য এ দিন বিশ্ব নেতারা ভিডিয়ো মেসেজ পাঠিয়ে এই গণহত্যার উদ্দেশ্যে বার্তা দেন। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানও তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ভিডিয়ো বার্তার মাধ্যমে বলেন, যদিও এই গণহত্যার ২৫ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, তবু সেই ব্যথা এখনও টাটকা রয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আবহে আমি সশরীরে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হতে পারলেও আমার আবেগ, চিন্তা সবসময় বসনিয়ার উদ্দেশ্যে রয়েছে। আমি সর্বদাই বসনিয়ার সঙ্গে রয়েছি। আমরা কোনও দিন আমাদের শহিদদের ভুলতে পারব না, পাশাপাশি স্রেব্রেনিকা গণহত্যাকে ভুলে যেতে পারব না। তিনি আরও বলেন, তুরস্ক এবং তুরস্কের জনগণ সর্বদায় বসনিয়া ও হার্জেগোভেনিয়ার পাশে রয়েছি। 

একইসঙ্গে এক ভিডিয়ো বার্তায় রাষ্ট্রসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনি গুতেরেস বলেছেন, ‘স্রেব্রেনিকা গণহত্যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউরোপের মাটিতে সবচেয়ে নৃশংস অপরাধ।’ ১৯৯৫ সালের ১১ জুলাই সার্ব বাহিনী বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় স্রেব্রেনিকা এলাকা দখল করে। রাষ্ট্রসংঘের পক্ষ থেকে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও সেব্রেনিকায় চালানো হয় নারকীয় গণহত্যা ও শুদ্ধি অভিযান। 

রাষ্ট্রসংঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের উপস্থিতিতেই সেই হামলা চলেছিল। সেব্রেনিকা দখলের প্রথমদিন থেকেই সার্ব বাহিনী স্থানীয় বসনীয় জনগোষ্ঠীর সকল পুরুষকে আলাদা করে দেয়। পরে তাদেরকে গণহারে হত্যা করে। ১১ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন সেব্রেনিকায় কোথাও না কোথাও রক্ত ঝরতে থাকে। রাষ্ট্রসংঘের ডাচ শান্তিরক্ষীদের সামনেই ৮ হাজার ৩৭২ জন বসনীয় মুসলিমকে হত্যা করে কবর দেওয়া হয়। 

বসনীয় প্রেসিডেন্ট সফিক জাজেরোভিচ বলেছেন, স্রেব্রেনিকা সঙ্গে নিরীহ মানুষের দুর্ভোগের সঙ্গে একাত্ব হয়ে গিয়েছে, যে অপরাধ এখানে সংঘটিত করা হয়েছিল সেটির আসল নাম গণহত্যা। আজ আমরা এখন দুঃখ ও বেদনার পোটোকারি উপত্যকায় রয়েছি। 

সেখানে ন’জন নিরীহ মানুষের লাশ নতুনভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সকলকে শ্রদ্ধা জানাতে এই জমায়েত। যাদের মধ্যে কয়েকজন তরুণ ছিলেন। ২৫ বছর পর বিশ্বের সভ্য মানুষ সংঘটিত অপরাধের ভুলগুলি সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠেছে। স্লোভেনিয়ার রাষ্ট্রপতি বুরুত পাহোর তার ভিডিয়ো বার্তায় বলেছেন, বসনিয়ার ভবিষ্যেতের মূল চাবিকাঠি সত্য এবং তা অস্বীকার করা যায় না। আমরা অতীতকে পরিবর্তন করতে পারি না, তবে ভবিষ্যৎকেও পরিবর্তন করতে পারি।