SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

হজযাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্বাস্থ্য-নির্দেশনা

হজ্জ ১৭ জানু. ২০২১
ফিচার
হজযাত্রীদের
© Ahmad Faizal Yahya | Dreamstime.com

হজের মৌসুমে খাদ্য গ্রহণে সংযম হওয়া এমন একটি বিষয় যার প্রতি হজযাত্রীদের বিশেষ মনোযোগ দেওয়া উচিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মানুষ তার পেটের চেয়ে খারাপ কোনো পাত্র ভরে না। পিঠকে সোজা রাখার মত কয়েক লোকমা খাবার গ্রহণই মানুষের জন্য যথেষ্ট। তবে যদি আরও বেশি খাওয়ার প্রয়োজনই হয় তবে তার খাবারের জন্য এক তৃতীয়াংশ, পানীয়ের জন্য এক তৃতীয়াংশ এবং শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য এক তৃতীয়াংশ ফাকা রাখা উচিত।” (মুসনাদে আহমদ, তিরমিযী)

খাদ্য গ্রহণের ক্ষেত্রে সংযমী হওয়ার পাশাপাশি খাবারটি স্বাস্থ্যকর কিনা এবং কোনো জীবাণু, ব্যাকটিরিয়া বা পরজীবী থেকে মুক্ত কিনা তাও নিশ্চিত হওয়া উচিত। হজযাত্রী-দের বিভিন্ন ধরণের খাদ্যের প্রয়োজন হয়, যা হজ পালনের সময় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময় তাদের দেহে ক্যালোরি, প্রোটিন বা ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে।

হজযাত্রীদের হজের সময় একটি আদর্শ পুষ্টি পরিকল্পনার তালিকা নিম্নে দেওয়া হল

– প্রোটিন হজযাত্রীদের প্রতিদিনের ডায়েটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। মাংস, ডিম, মাছ এবং দুধে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিন পাওয়া যায়। হজযাত্রীদের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ১০০ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।

– ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করাও গুরুত্বপূর্ণ। লিভার, তাজা ফল, ভুট্টা এবং গম হল ভিটামিনের অন্যতম উৎস।

– একইভাবে, চর্বি তাপীয় শক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স এবং ক্রিম, মাখন, তেল জাতীয় খাদ্য চর্বিযুক্ত খাবারের অন্তর্ভুক্ত।

অসুস্থ হজযাত্রীদের হজের সময় বিশেষ ধরণের ডায়েটের প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ, কিডনিজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের অল্প লবণ খাওয়ার পাশাপাশি প্রোটিন এবং ফসফরাসযুক্ত খাবারও কম খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে পানি, শাকসবজি এবং ফল খাওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে চর্বিজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করাও এড়াতে হবে।

সুতরাং, যেসকল হজযাত্রীরা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তাদের উচিত ডায়েট পর্যালোচনা করার জন্য নিকটস্থ কোনো চিকিত্সা কেন্দ্রের ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করা। এছাড়া বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের হজে যাওয়ার পূর্বেই কোনো পুষ্টি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

হজযাত্রীদের হজের সময় সুষম খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য এখানে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য টিপস উল্লেখ করা হল

১) উন্মুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং কৌটাজাত খাবারের মেয়াদ উর্ত্তীণের তারিখ দেখে ক্রয় করুন।

২) খাবার গ্রহণের সময় মধ্যমপন্থা অবলম্বন করুন এবং যে সকল খাবারে বদহজম হয় সেগুলি এড়িয়ে চলুন।

৩) তাজা শাকসবজি এবং ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

৪) মাংসজাতীয় খাবার ভালোভাবে, সময় নিয়ে রান্না করুন।

৫) কোষ্ঠ্যকাঠিন্য এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও পানীয় জাতীয় খাবার গ্রহণ করুন।

৬) খাওয়ার পূর্বে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন।

হজ চলাকালীন স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্য গ্রহণ করা সুস্থ থাকতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

হজযাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি (মেডিকেল টুলবক্স) সাথে রাখা

কিছু হজযাত্রী প্রয়োজনীয় সমস্ত সতর্কতা অবলম্বন করে হজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। অন্যদিকে, কিছু হজযাত্রী এ ব্যাপারে খুবই উদাসীন। তারা নিরাপদে হজ সম্পাদনের জন্য যে সকল সতর্কতা গ্রহণ করা প্রয়োজন তা গ্রহণ করেন না। প্রাথমিক চিকিৎসার যন্ত্রপাতি সাথে রাখা হল এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।

কোনো হজযাত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসার টুলবক্সে দুই ধরণের ওষুধ থাকতে পারে-

১) দীর্ঘস্থায়ী রোগের ওষুধ

-যে সকল হজযাত্রীরা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ টুলবক্সের মধ্যে রাখা উচিত।

-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হজযাত্রীদের তাদের টুলবক্সে ইনসুলিন ইনজেকশন এবং অগ্ন্যাশয় এনজাইম ট্যাবলেট নেওয়া উচিত।

-হাঁপানির আক্রমণে ভোগা হজযাত্রীদের শ্বাসকষ্ট হ্রাস করতে ইনহেলারদের নেওয়া উচিত।

-যে সকল হজযাত্রী হৃদরোগে ভুগছেন তাদের উচিত প্রয়োজনীয় ওষুধ সাথে নেওয়া।

এছাড়া এরকম দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত রোগীদের উচিত হজে যাওয়ার পূর্বে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ সাথে নেওয়া।

২) সাধারণ কিছু রোগের ওষুধ

-ডায়রিয়া বা পানিস্বল্পতা এমন একটি রোগ যাতে হঠাৎ করেই কেউ আক্রান্ত হতে পারে। তাই ডায়রিয়া বা পানিস্বল্পতা থেকে বাঁচতে স্যালাইন ও ডায়রিয়ার ওষুধ টুলবক্সে অবশ্যই রাখা উচিত।

-জ্বরের জন্য ‘প্যারাসিটামল’ জাতীয় ওষুধ সাথে রাখা উচিত।

-আবহাওয়া পরিবর্তন হলে সকলেই হঠাত ঠান্ডা কাশিতে আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে। তাই ঠান্ডা, কাশি বা ফ্লু প্রতিষেধক ওষুধও মেডিকেল টুলবক্সে রাখা উচিত।

-জ্বলন এবং রোদে পোড়া উপশমের জন্য মলম সাথে রাখা উচিত।

-হালকা পেটের প্রদাহ চিকিত্সার জন্য অ্যান্টাসিড ওষুধ সাথে রাখা উচিত।

-মেডিকেল টেপ, তুলা এবং ডেটল এর মত জীবাণুনাশক সাথে রাখা উচিত।

এগুলি হল মেডিকেল টুলবক্সের গুরুত্বপূর্ণ কিছু উপাদান যা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক হজযাত্রীর সাথেই রাখা উচিত।