হজ্জের সওয়াব প্রদান করে এমন ১০টি সাধারণ কাজ

হজ্জ ২৬ জুলাই ২০২০ Contributor
হজ্জের সওয়াব
ID 148188451 © Chemmy14 | Dreamstime.com

একজন সহি মুসলমান মানেই হজ্জের সওয়াব তার কাছে মহাপূণ্যের বিষয়। হজ্জের সওয়াব ইসলামী জীবনে নিয়ে আসে শান্তি ও পবিত্রতা। কোনো আমল হজ্জের মত ঐশ্বরিক ও পবিত্র অনুষ্ঠানের সমতুল্য হতে পারে না বা হজ্জে যে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি অন্তরে লাভ হয় তার সমতুল্য প্রশান্তিও কোনো আমল দ্বারাই আপনি পাবেন না। কিন্তু আল্লাহ পরম করুণাময় ও পরম দয়ালু। তিনি আমাদেরকে এমন কিছু আমল দিয়েছেন যেগুলির মাধ্যমে আমরা হজ্জের সওয়াব পেতে পারি, আর তা হজ্জের সমতুল্য।
এখানে এমন ১০টি আমলের কথা বলা হল যেগুলির মাধ্যমে আপনি নফল হজ্জের সওয়াব পেতে পারেনঃ

১। হজ্জের সওয়াব রয়েছে ফজরের নামাজের পর ইশরাকের নামাজ আদায় করায়ঃ 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ
যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করে, এর পর নিজ স্থানে বসে থেকে সূর্যোদয় হওয়া পর্যন্ত জিকির-আযকারে মগ্ন থাকে, অতঃপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, সে একটি হজ ও একটি ওমরাহ এর সওয়াব লাভ করবে। নবীজী তিনবার জোর দিয়ে এই কথাটি বলেছেন। (তিরমিজী)

২। ইলমে দ্বীন (দ্বীনের জ্ঞান) শেখা বা শেখানো পাওয়া যায় হজ্জের সওয়াবঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ
যে ব্যক্তি কোনো ভালো কথা শিখা বা শিখানোর উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে পরিপূর্ণরূপে হজ আদায়কারী ব্যক্তির মতো সওয়াব লাভ করবে। (তাবারানী)

৩। ইশা ও ফজর নামাজ জামাতে আদায় করায় র‍য়েছে হজ্জের সওয়াবঃ  

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

আল্লাহ কি তোমাদেরকে ইশার নামাজ জামাতে আদায়ের জন্য হজের সমান এবং ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের জন্য ওমরাহ এর সমান সওয়াব বর্ণনা করেননি? (মুসলিম)

৪। হজ্জের সওয়াব পেতে জুমআর নামাজে অংশ নেওয়া অবশ্যকর্তব্যঃ 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেনঃ

যে ব্যক্তি নিজের ঘর থেকে উত্তমরূপে অজু করে ফরজ নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে ইহরাম বেঁধে হজে গমনকারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করে।
সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব (রহঃ) বলতেন যে, “জুমআর নামাজ আদায় করা আমার কাছে নফল হজ্জের চেয়ে বেশি প্রিয়”।

৫। ঈদের নামাজ আদায় করাঃ

এক সাহাবী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে,

ঈদুল ফিতরের নামায আদায় করা ওমরাহ আদায়ের সমান এবং ঈদুল আযহার নামায আদায় করা হজ্জ পালনের সমান।

৬। কোনো মুসলমানের প্রয়োজন মেটানোতে হজ্জের সওয়াব প্রাপ্তিঃ 

হাসান বসরী (রহঃ) বলছেনঃ

তোমার কোনো ভাইয়ের প্রয়োজন মেটানো তোমার বারবার হজ্জ আদায় করার চেয়ে উত্তম।

৭। পিতামাতার আনুগত্য করায় রয়েছে হজ্জের সওয়াবঃ 

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমি জিহাদে অংশগ্রহণ করতে চাই, কিন্তু আমার সেই সামর্থ্য ও সক্ষমতা নেই। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার মাতা-পিতার কেউ কি জীবিত আছেন?’
লোকটি বলল, আমার মা জীবিত আছেন।
তখন
রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘তাহলে তোমার মায়ের সেবা করে আল্লাহর নিকট জিহাদে যেতে না পারার অপারগতা পেশ কর। এভাবে যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ, ওমরাহ এবং জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় করো এবং মায়ের সেবা করো। (মাজমাউয যাওয়াইদ)

 ৮। যিকির করা অবশ্যই হজ্জের সওয়াব প্রদান করেঃ 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এর অন্যতম একজন সাহাবী বর্ণনা করেছেনঃ

যে ব্যক্তি সকালে ১০০ বার এবং সন্ধ্যায় ১০০ বার সুবহানাল্লাহ এর যিকির করবে সে যেন ১০০ বার হজ্জ আদায় করল!

৯। নাজায়েজ-হারাম কাজ থেকে বিরত থাকাঃ 

সালাফদের (নেককার পূর্বসূরী) মধ্য থেকে কেউ একজন বলেছেনঃ

“নাজায়েজ কাজ থেকে বিরত থাকা পাঁচশো (নফল) হজ্জের চেয়ে উত্তম।”

১০। যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের মধ্যে যে কোনো নেক আমলঃ 

আল্লাহ আমাদেরকে এই সমস্ত নেক আমল করে নফল হজ্জের সওয়াব পাওয়ার তওফিক দান করুন এবং আসল হজ্জ বহুবার সম্পাদনের জন্য যথাযথ ক্ষমতা দান করুন। আমীন