হজ কি এবারে বন্ধ হতে পারে?

mecca-pilgrims-hajj-salamtoday

করোনাভাইরাসের কারণে এবার হজ না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সারা বিশ্বের পাশাপাশি সৌদি আরবে ভাইরাসটি আত্মপ্রকাশ করায় এমন শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি সরকার এ বছরের হজ বাতিল ঘোষণা করেছে বলে যে গুজব ছড়িয়েছে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত নওয়াফ বিন সাআদ আল-মালিকি। উর্দু নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হজ বাতিল করার সিদ্ধান্ত যদি নেয়া হয়, তাহলে সময় মতো হজযাত্রীদের করণীয় কী হবে, সে সম্পর্কেও আগাম জানিয়ে দেয়া হবে। এখন পর্যন্ত এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হজের আগে সৌদি আরবের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও বিশ্ব পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে সীমিত আকারে অভ্যন্তরীণভাবে হজ কার্যক্রম চালু রাখা হতে পারে। তবে নিজ দেশে করোনা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হলে ওমরাহর পাশাপাশি এ বছরের হজকার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হতে পারে। এপ্রিল মাসেই এই ঘোষণা আসতে পারে।

ইতিহাসে অনেকবার হজ বন্ধ কিংবা সীমিত করা হলেও ১৯৩২ সালের পর একেবারেই হজ বন্ধ থাকার কোনো ঘটনা ঘটেনি । হজ স্থগিত রাখা হতে পারে এমন আশঙ্কা বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়ছে চলতি বছরের হজ গমনেচ্ছুদের ওপর। বাংলাদেশে হজের জন্য নিবন্ধনের সময় এক দফা বৃদ্ধি করার পরও হজ যাত্রী নিবন্ধন এ বছর নিম্নমুখী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হজ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং হজযাত্রীদের মধ্যেও এ বছরের হজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিরাজ করছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে হজ কি কখনো বন্ধ ছিল?

ইসলামের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে  এর আগেও বহুবার রোগ, সঙ্ঘাত, দস্যু ও আক্রমণকারীদের তৎপরতা বা অন্যান্য কারণে হজ বাতিল করা হয়েছে এবং এই হিসেবে হজ বন্ধ করা নিয়ে মানুষের আশঙ্কা একেবারেই অমূলক নয়। সম্প্রতি সৌদি কিং আব্দুল আজিজ ফাউন্ডেশন ফর রিসার্চ অ্যান্ড আর্কাইভস ইতিহাসে ৪০ বার হজ বাতিল করা হয়েছিল বা হজযাত্রীর সংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল উল্লেখ করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ইসলামী গবেষকরা বলছেন, মহামারী বা এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে আক্রান্ত এলাকা থেকে অন্য এলাকায় এবং আক্রান্ত এলাকায় না যাওয়ার ব্যাপারে রাসূল সা: হাদিসে পরিষ্কারভাবে বলেছেন। ফলে সৌদি সরকার হজের জন্য হাজীদের প্রবেশে নিষেধ করার অবকাশ আছে।

আমরা জানি, হজ জীবনে একবার ফরজ। ফলে আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়ার পর ব্যক্তির ওপর ফরজ হয়ে যাবে। এখন আদায়টা বাকি থাকবে। ওই ব্যক্তি এ বছর আদায় করতে না পারলে পরের বছর আদায় করবেন। এ বছর আদায় করতে না পারা কেউ যদি মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে পড়েন তাহলে তিনি তার উত্তরাধিকারীদের কাছে হজ করার জন্য ওসিয়ত করে যাবেন এবং সে অনুযায়ী পরবর্তীতে সেটি পালন করলে আদায় হয়ে যাবে। ইসলামী গবেষকদের মতে, সামর্থ্যবানদের ওপর আল্লাহ হজ ফরজ করেছেন। এখন যাওয়ার পথ এবং যেখানে গিয়ে হজ পালন করবেন সেই স্থান নিরাপদ না হলে, জীবনহানি বা রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে বা শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকলে হজ বিলম্বিত করায় কেউ গুনাহগার হবেন না।

মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষক ড. মুহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী এ ব্যাপারে বলেন, ইতিহাসে হজ বন্ধ থাকার নজির আছে। হিজরতের নবম বছরে হজ পালন ফরজ ইবাদত হিসেবে ঘোষিত হওয়ার পর থেকে এ যাবৎ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ৪০ বার হজ স্থগিত হয়েছিল। যার মধ্যে ১২ বার স্থগিত করা হয়েছিল সম্পূর্ণরূপে। করোনাভাইরাসের কারণে হজ ও ওমরাহ ২০২০ সালে স্থগিত হওয়া অসম্ভব নয়, কিন্তু তা নির্ভর করবে এই রোগের সংক্রমণ আন্তর্জাতিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা।