হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এবং সত্যের উপলব্ধি (পর্ব-০২)

jake-givens-ocwmWiNAWGs-unsplash
Fotoğraf: Jake Givens-Unsplash

পর্ব-০২ 

সূরা আলাকের প্রথম পংক্তিমালা নাজিলের পর বেশ কিছুদিন সময় অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে। জিবরাইল আর কোন বাণী নিয়ে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কাছে আসছেন না। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)এর মনে অস্থিরতা সৃষ্টি হল। তিনি নিজে নিজেই ভাবতে শুরু করলেন, আসলে ঘটনাটা কী? মাথা ঠিক আছে তো? উন্মাদ হয়ে যাইনি তো? যখন তার মনে এক ধরনের সন্দেহ সংশয়ের দোলাচলে তার মন দুলছিলো , তখন নাজিল হলো সূরা কলমের এক থেকে ছয় আয়াত : ‘নূন। ভাবো কলম নিয়ে। আর তা দিয়ে যা লিপিবদ্ধ করা হয়।তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহে তুমি উন্মাদ নও। নিশ্চয়ই তোমার জন্যে রয়েছে অশেষ পুরস্কার। কারণ তুমি নিশ্চিতভাবেই নির্মল চরিত্রে অধিষ্ঠিত। শিগগিরই তুমি দেখবে এবং (যারা অপপ্রচার করছে) তারাও দেখবে, কারা বিকারগ্রস্ত।’ (সূরা কলম : ১-৬)

আবার বিরতি, আবার নীরবতা। এবং অপেক্ষা আগের সময়ের চেয়েও দীর্ঘ। আগের চেয়ে দীর্ঘসময় ধরে নীরবতা। আর কোনো ঐশীবাণী আসছে না। আবার সংশয়ে ডুবে যাওয়া। আবার হতাশা নিয়ে ফিরে আসা খাদিজার কাছে। আমারআল্লাহ কি আমাকে পরিত্যাগ করেছেন?

খাদিজা আগের মতোই তাঁকে আশ্বস্ত করলেন, আপনি এমন কিছুই করেন নি যাতে প্রভু অসন্তুষ্ট হতে পারেন। অবশেষে সুরা দোহার নাজিলের মধ্য দিয়ে অপেক্ষার অবসান হলো। ‘ভাবো সকালের সোনালি আলো আর রাতের নিকষ অন্ধকার নিয়ে।(হে নবী!) তোমার প্রতিপালক কখনো তোমাকে ত্যাগ করেন নি। না তিনি কোনো ব্যাপারে তোমার ওপরে অসন্তুষ্ট। নিঃসন্দেহে তোমার পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে পরবর্তী সময় অনেক ভালো। অচিরেই তোমার প্রভু তোমাকে এমন নেয়ামত দান করবেন, যাতে তুমি পরিতৃপ্ত হবে। তিনি কি তোমাকে এতিম অবস্থায় পান নি এবং তারপর তোমাকে আশ্রয় দান করেন নি? পথহারা অবস্থা থেকে তিনি কি তোমাকে সত্যপথের সন্ধান দেন নি? নিঃস্ব অবস্থা থেকে তিনি কি তোমাকে অভাবমুক্ত করেন নি? অতএব তুমি এতিমের প্রতি কঠোর হয়ো না। কোনো সাহায্যপ্রার্থীকে তিরস্কার কোরো না। আর সবসময় তোমার প্রতি তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা প্রকাশ করতে থাকো।’ (সূরা দোহা : ১-১১)

এরপর থেকে একের পর এক নাজিল হতে শুরু করল সুরার পর সূরা। মক্কার বণিক-পুরোহিতদের প্রচারিত ভোগবাদী ভ্রান্ত জীবনদৃষ্টি সংশোধনই ছিল এর লক্ষ্য। প্রকৃতপক্ষে কোরআনের বাণী খুব সহজ সরল। কিন্তু সত্য-মিথ্যা নিরূপণে, ন্যায়-অন্যায় বর্ণনায় সুস্পষ্ট ও আপসহীন। শাশ্বত, তারপরেও সমকালীন ও উত্তর আধুনিক। একজনের মর্যাদা নির্ধারিত হবে তার কর্ম দ্বারা। যে যা করবে সে তার ফল ভোগ করবে। শুধু এক আল্লাহর উপাসনা করতে হবে। কোনো কল্পিত দেবতা, কোনো মূর্তির উপাসনা করা যাবে না। অর্থ, ধনসম্পদ, খ্যাতি বা ক্ষমতাকে দেবতা বা উপাস্য বানানো যাবে না। কোনোকিছুকেই আল্লাহর সাথে শরিক করা যাবে না বা আল্লাহর সার্বভৌম ক্ষমতার অংশীদার বানানো যাবে না। আর একটি ছোট্ট বাক্য, ‘মুহাম্মদ আল্লাহর রসুল।’ অর্থাৎ মানুষের পরিত্রাণের জন্যে আল্লাহর দিক-নির্দেশনা পৌঁছে দিচ্ছেন মুহাম্মদ। এই বাণীর আলোকে ভালো কাজগুলো করতে হবে, খারাপ কাজগুলো বর্জন করতে হবে। সবসময় শোকরগোজার থাকতে হবে। জীবনকে শান্তি-সুখে ভরপুর করার জন্যে রসুল বা বাণীবাহককে অনুসরণ করতে হবে।