হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিজয় বেশে মক্কায় প্রবেশ

ID 116231496 © Novi Elysa | Dreamstime.com

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনকে ফিরে দেখা আমাদের জন্য খুবই জরুরি। তাঁর আচরণে কি পরিমাণ দয়া ও করুণা ছিল তা দেখুন, দেখুন তিনি কীভাবে তাঁর স্ত্রীদের সাথে এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে আচরণ করতেন।

হৃদয়কে জিতে নিতেন

তিনি আশেপাশের মুসলিম ও অমুসলিমদের জন্য কী করেছিলেন তা দেখুন … তারা ন্যায়বিচার পেয়ে শান্তিতে ছিল।

এবং কিভাবে তিনি তাঁর নিজের লোকদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের জন্য দাঁড়িয়েছিলেন তাও দেখুন; এবং এটিও দেখুন তিনি কিভাবে তাদেরকে ক্ষমা করেছিলেন, যারা তাঁকে সারাজীবন কত কষ্ট দিয়েছিল, তাঁকে তাঁর স্বদেশ থেকে বিতারিত করেছিল এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

মক্কা বিজয়

তিনি সেই মক্কা নগরীতে প্রবেশ করছিলেন, যেই নগরীতে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, বড় হয়েছিলেন, যেই নগরী থেকে তিনি বিতারিত হয়েছিলেন এবং এখন বহু বছর পরে বিজয়ী বেশে তিনি সেই সুন্দর নগরীতে প্রবেশ করছিলেন।

এই মুহূর্তে মক্কার অভ্যন্তরে এমন কিছু লোক ছিল যারা তাদের মধ্যে যারা মুসলমান ছিল তাদের সম্পত্তি চুরি করেছিল এবং তারা বিপুল সংখ্যক মুসলমানদেরকে হত্যা করেছিল এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তারা সেনাবাহিনীও প্রস্তুত করেছিল। তবুও, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় বিজয়ী বেশে প্রবেশ করার সাথে সাথে নিজেকে বিনয়ী করলেন; তিনি মাথা নীচু করে মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসা ঘোষণা করলেন।

এবং কুরাইশ কাফেরদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ

“হে কুরাইশ সম্প্রদায়, তোমরা কি ভাবছ যে, আজ আমি তোমাদের সাথে কেমন আচরণ করবো?”

স্পষ্টতই, এই প্রশ্নটি তাদের মনে চিন্তার উদ্রেক করেছিল যে, তারা যদি এই অবস্থানে থাকত তবে তারা কী করত। এটি অন্যতম একটি কারণ, অন্যথায় নবীজীকে প্রশ্ন করার দরকার পড়ত না।

সুতরাং, নম্রতার সাথে তারা নীচের দিকে তাকিয়ে বললঃ

“আপনার প্রতি আমরা ভাল ধারণা রাখি, আপনি একজন সম্ভ্রান্ত বংশের সন্তান।”

তিনি তখন বললেন:

যাও, আজ তোমরা মুক্ত। ইউসুফ আ’লাইহিস সালাম যেমন তাঁর ভাইদেরকে বলেছিলেন, আজ আমিও তোমাদেরকে তাই বলছিঃ “আজ তোমাদের বিরুদ্ধে আমার কোনোই অভিযোগ নেই। আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন। তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।” (আল কুরআন-১২:৯২)। (সুনানুল কুবরা)

এটিই ছিল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর আখলাক। তিনি এমন সময় তাদেরকে ক্ষমা করেছিলেন যখন তিনি জানতেন যে, এসব লোকেরাই তাকে ও তাঁর সাথিদেরকে সারাজীবন কষ্ট দিয়েছে, আর আজ এরাই মস্তকাবনত অবস্থায় তাঁর সামনে উপস্থিত। প্রতিশোধ গ্রহণে কোনো বাধা না থাকা সত্ত্বেও তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন।

এর ফলস্বরূপ, তাদের মধ্যে অনেকেই ইসলামে প্রবেশ করেছিল এবং অনেকেই সেই সৌন্দর্যমন্ডিত আলোকবর্তিকাকে দেখতে পেয়েছিল যা তিনি সবার নিকট প্রচার করছিলেন।