SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

হাতের ত্বক কুঁচকে যাওয়া কীভাবে আটকাবেন?

স্টাইল ১৯ ফেব্রু. ২০২১
মতামত
হাতের ত্বক কুঁচকে
© Fizkes | Dreamstime.com

সামনেই রয়েছে ভাতিজার শাদি। অনুষ্ঠানের দিন কীভাবে সাজা যায়, তার প্ল্যান করছিলেন ইনায়া বেগম। কিন্তু হাতের দিকে চোখ পড়তেই মন খারাপ হয়ে গেল তাঁর। বেশ কয়েকমাস ধরেই হাতের ত্বক কুঁচকে যাচ্ছে তাঁর। নানারকম ক্রিম, লোশন লাগিয়েও কমাতে পারেননি সেটা। ইনায়া বেগমের মতো হাতের ত্বক কুঁচকে যাওয়ার সমস্যা যদি আপনারও থেকে থাকে, তাহলে আর চিন্তা করবেন না। কেন হাতের ত্বক কুঁচকে যায়, আর একবার ত্বক কুঁচকে যেতে শুরু করলে কীভাবে তাকে আটকাবেন, ফিরিয়ে আনবেন পুরনো জেল্লাদার মাখনের মতো মসৃণ ত্বক, সেই হদিশই রইল আজকের লেখায়।

কেন হাতের ত্বক কুঁচকে যায়?

ত্বক বা বিশেষ করে হাতের ত্বক নানাকারণে কুঁচকে যেতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হল বয়সজনিত কারণ। বয়সের সঙ্গে-সঙ্গে হাতের ত্বকের নীচে থাকা ফ্যাটের আস্তরণ পাতলা হতে শুরু করে। ফলে চামড়া দ্রুত কুঁচকোতে থাকে। যারা ঘরের কাজকর্ম করেন, বেশি জল ঘাঁটেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা আরও বেশি করে দেখা যায়। এছাড়া কোনওরকম সাবধানতা অবলম্বন না করে, সানস্ক্রিন না মেখে বা ছাতা না নিয়েই যদি রোদে বেরিয়ে পড়েন, তাহলেও হাতের ত্বক কুঁচকে যাওয়ার সমস্যা তৈরি হয়।

আপনার যদি জল কম খাওয়ার অভ্যেস থাকে, তাহলে ডিহাইড্রেশনের কারণে হাতের ত্বক কুঁচকে যেতে পারে। বিভিন্নরকম ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থযুক্ত ক্রিম এবং অত্যধিক ধূমপানের কারণেও হাত সহ যে-কোনও স্থানের ত্বক কুঁচকে যেতে পারে। হাতের ত্বক কুঁচকে গেলে তা দেখতে মোটেও ভাল দেখায় না। এর ফলে অল্প বয়সেই ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করে। কিন্তু হাতের ত্বক যদি কুঁচকে যেতে শুরু করে, কীভাবে আটকাবেন সেটা?

ঘরোয়া পদ্ধতিতে হাতের কুঁচকে যাওয়া ত্বকের থেকে বাঁচুন

এর জন্য নিয়ম করে হাতের যত্ন নেওয়া আবশ্যিক। অনেকেই বাইরের রাসায়নিক যুক্ত ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজারে ভরসা করতে পারেন না। তাঁরা কিন্তু কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করে সহজেই এই সমস্যার সমাধান করে ফেলতে পারবেন।

পাতিলেবু ও চিনির স্ক্রাবার

এই মিশ্রণটি দিয়ে স্ক্রাব করলে আপনি দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়া ত্বকের থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। পাতিলেবুর রস এবং চিনির দানা মিশিয়ে নিয়ে সেটি দিয়ে হাত দু’টি স্ক্রাব করে নিন। লেবুর রস আপনার হাতের কালো দাগ, বয়সের ছাপ দূর করে হাতকে পরিষ্কার, সুন্দর রাখবে এবং চিনির দানা ত্বকের মরা কোষ দূর করবে। ফলে খুব সহজেই মসৃণ ত্বকের অধিকারী হতে পারবেন এই ঘরোয়া স্ক্রাবার ব্যবহার করে।

হাতের ত্বক কুঁচকে গেলে দুধ

এটি কিন্তু হাতের ত্বক কুঁচকে যাওয়ার সমস্যায় জাদুদণ্ডের মতো কাজ করবে। স্ক্রাবার দিয়ে ত্বক এক্সফোলিয়েট করার পর কোনও একটি ময়েশ্চারাইজার লাগানোর প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে আপনি দুধকে কাজে লাগাতে পারেন। দুধে থাকে

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। ফলে হাত দুধে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন, দেখবেন ত্বক মোলায়েম দেখাবে। এটি কিন্তু সপ্তাহে বার দুয়েক করতে ভুলবেন না।

কলা

কলা চটকে ব্যবহার করুন। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পাশাপাশি কলায় থাকে ভিটামিন সি, যা ত্বকের কুঁচকে যাওয়া আটকে ত্বকে সুন্দর করে। এর জন্য একটি কলা চটকে নিন, ইচ্ছে হলে ওতে মধুও মেশাতে পারেন। এই পেস্টটি হাতদুটোয় লাগিয়ে নিন, তারপর শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। দ্রুত ফল পেতে সপ্তাহে দু’বার ব্যবহার করুন।

অলিভ অয়েল

রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে হাতে বা সারা গায়ে অলিভ অয়েল লাগিয়ে নিলে উপকার পাবেন। তবে হাত খোলা থাকলে ঘুমনোর সময় ঘষা লেগে তেল মুছে যেতে পারে। তাই সুতির পাতলা একটা গ্লাভস লাগিয়ে নিতে পারেন। সকালে উঠে গরম জলে হাত ধুয়ে নিন। এর ফলে হাত নরম থাকবে, কুঁচকেও যাবে না।

এছাড়া টমেটোর রস, চালের গুঁড়ো, অ্যালোভেরা জেল, নারকেল তেল, শসা ইত্যাদিও ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। যদি আপনার হাতের ত্বক কুঁচকে যায়, তাহলে এগুলি নিয়ম করে ব্যবহার করলে চটজলদি উপকার পাবেন।

খেয়াল রাখুন

তবে হাতের ত্বক যাতে কুঁচকে না যায়, সে জন্য শুরু থেকেই হাতের যত্ন নেওয়া ভাল। রোদে বেরলে সানস্ক্রিন লোশন মাখার অভ্যেস না থাকলে সেটি এবার শুরু করুন। মনে রাখবেন, কড়া রোদে কোনওরকম প্রোটেকশন না নিয়ে বা ছাতা ছাড়া বেরলে ত্বকের কোলাজেন এবং ইলাস্টিন ফাইবার ভাঙতে শুরু করে, ফলে ত্বক কুঁচকে যেতে থাকে। এক্ষেত্রে সানস্ক্রিন লোশন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্নির হাত থেকে আপনার হাতকে রক্ষা করতে পারে।

যারা বাইক বা স্কুটি চালান, তাঁরা বিশেষ করে এ ব্যাপারে যত্নবান হন। ত্বক থেকে টক্সিন পদার্থগুলি না বেরতে পারলে সেটিও নানা সমস্যার কারণ হয়, তাই ক্ষতিকর টক্সিনসমূহ বের করার জন্য নিয়ম করে জল খান, হাইড্রেটেড থাকুন। এছাড়া ডাক্তাররা রাতে রেটিনয়েড ক্রিম লাগিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। এটি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম হিসেবে দারুণ কার্যকরী। নিয়ম করে হাতের যত্ন নিন, দেখবেন পঞ্চাশেও আপনার হাত কুড়ি বছরের তরুণীর মতো মোলায়েম থাকবে।