হাদিস শরীফ সংগ্রাহকদের জীবনী ও অবদান- ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ ইবন মাজাহ

ID 117399405 © Vvoevale | Dreamstime.com
ID 117399405 © Vvoevale | Dreamstime.com

জন্মও ও প্রাথমিক শিক্ষা

ইমাম মুহাম্মাদ বিন ইয়াজিদ ইবন মাজাহ। তিনি ২০৯ হিজরীতে ইরাকে আযম বা উত্তর-পশ্চিম ইরাকের কাযভীন নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। মুসলিম বিশ্বের তৃতীয় খলিফা উসমান এর খেলাফতের সময় এ শহরটি বিজিত হয়। এই ঐতিহাসিক শহরের প্রথম প্রশাসক ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবী বারা ইবনু আযেব।তার প্রকৃত নাম হচ্ছে মুহাম্মদ। তার পিতার নাম হচ্ছে ইয়াযীদ, আর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। তবে তাকে অধিকাংশই ইবন মাজাহ নামেই চিনে থাকেন। ইবন মাজাহ এর মাজাহ নামটি কার উপাধি থেকে এসেছে এ নিয়ে ইতিহাসবিদদের ভেতরে মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলার চেষ্টা করে থাকেন যে এটি তার বাবার উপাধি আবার কেউ কেউ বলে থাকেন যে এটি তার দাদার উপাধি।

তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন তার নিজের জন্মস্থান দেশেই। প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি কোরআনের হাফেজ সম্পন্ন করেন। তারপর তিনি আরো উঁচু শিক্ষা অর্জন এবং হাদিস সংগ্রহের জন্য তৎকালীন মুসলিম বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে এবং ওই দেশের ওই সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসদের কাছে গিয়েছিলেন। তিনি ২৩০ হিজরী মোতাবেক তার বয়স যখন ২২ বছর সেই বয়স থেকেই তিনি হাদিস সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন শহরের মুহাদ্দিসদের কাছে দ্বারস্থ হন।

হাদিস সংগ্রহ

আল্লামা আবু যাহু ‘হাদীস ওয়াল মুহাদ্দিছূন’ গ্রন্থে লিখেছেন,ইমাম ইবনু মাজাহ হাদীছ লিপিবদ্ধকরণ এবং শিক্ষার্জনের জন্য রায়, বছরা, কূফা, বাগদাদ, সিরিয়া, মিসর, হেজায প্রভৃতি দেশ ও জনপদে ভ্রমণ করেন এবং বহু মনীষীর নিকট থেকে হাদীস সংগ্রহ করেন। আল্লামা আব্দুর রহমান মুবারকপুরী ও নওয়াব ছিদ্দীক হাসান খান ভূপালী তাদের গ্রন্থে লিখেছেন। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে তিনি হাদিস সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন দেশ এবং শহর ভ্রমণ করেন। যার ভেতরে মক্কা, মিশর, বসরা, কুফা, ইরাক, বাগদাদ, সিরিয়া সহ আরও বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন।

হাদীস সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে তারে কষ্টকর দেশ ভ্রমণের পর তিনি ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসলাম চর্চায় নিমগ্ন থাকেন। তিনি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জ্ঞানী শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে ছিলেন। শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ইয়াযীদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইয়ামামী, বিশর ইবনু মু‘আয আল-আকাদী, দাঊদ ইবনু রুশাইদ, আবু খায়ছামা, আব্দুল্লাহ ইবনু আমের ইবনে বাররাদ, আবু সাঈদ, আল-আমাযা, হুমাইদ ইবনু মাসয়াদা,আবু হুযাফা আস-সাহমী, আব্দুল্লাহ ইবনু যাকওয়ান আল-মুকবেরী সহ আরো প্রমূখ। তিনি অনেকের কাছ থেকেই হাদিস শিক্ষা গ্রহণ করলেও আবু বকর ইবনু আবু শায়বার নিকট হতে তিনি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছিলেন।

ছাত্রদের প্রিয়

তিনি যখন তার শিক্ষকদের কাছ থেকে স্নেহ ভালোবাসা পেয়েছেন তেমনি তিনি তাঁর অসংখ্য ছাত্রদেরকেও অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন তাঁর গবেষণালব্ধ জ্ঞান। তার উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের মধ্যে হচ্ছে, আহমাদ ইবনু ইবরাহীম আল-কাযভীনী (তিনি হাফেয আবু ইয়া‘লা আল-খলীলীর দাদা), আবু আমর আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে হাকীম আল-মাদীনী আল-ইস্পাহানী, সোলায়মান ইবনু ইয়াযীদ আল-কাযভীনী সহ প্রমুখ।

তার মৃত্যু তারিখ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ইবনু কাছীর ও জামালুদ্দীন ইউসুফ আল-মিযযী এর মতে ২৭৩ হিজরী ২২ রামাযান মোতাবেক ২০ নভেম্বর ৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দে সোমবার তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এবং এর পরদিন অর্থাৎ মঙ্গলবার তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর। আবার কারো কারো মতে তিনি ২৭৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন।