হাদিস শরীফ সংগ্রাহকদের জীবনী ও অবদান- ‘নাসিরুল হাদিস’ ইমাম শাফেয়ী

dreamstime_s_103029744

ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ ১৫০ হিঃ সনে ( খৃষ্টাব্দে) মিসরের আসকালনা প্রদেশের গাযাহ নামক এক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা তার জন্মের ২ বছর পর মারা যায়। তার জন্মস্থান এর ব্যাপারে বেশ কিছু মতামত পরিলক্ষিত হয়।তিনি তার সময়ের একজন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ, গবেষক, এবং জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। ১৫০ হিঃ সনে ( খৃষ্টাব্দে) মিসরের আসকালনা প্রদেশের গাযাহ নামক এক স্থানে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তাঁর জন্মের ২ বছর পর মারা যায়। তাঁর জন্মস্থান এর ব্যাপারে বেশ কিছু মতামত পরিলক্ষিত হয়। তার পুরো নাম মোহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্বাস ইবনে উসমান ইবনে শাফেঈ, আল কুরাশী, আল শাফেয়ী, আল মাক্কী। এই হিসাব অনুযায়ী তাঁর নাম হচ্ছে মুহাম্মদ, তাঁর পিতার নাম হচ্ছে ইদ্রিস, আর তাঁর দাদার নাম আব্বাস। আর তাঁর উপনাম আবু আব্দুল্লাহ। তাঁর সকল পূর্বপুরুষদের মধ্যে তাঁর নবম পূর্বপুরুষ আব্দুল মান্নাফ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চতুর্থ পূর্বপুরুষ ছিলেন। তিনি ছোটকালেই তাঁর পিতাকে হারান। পিতার মৃত্যুর পর দারিদ্রতা ও অভিভাবকহীনতা সহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। তাঁর মা ছিলেন একজন বিচক্ষণ মহিলা। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তার মা তাকে মক্কার পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়ে আসেন। এবং তাকে কোরআন মুখস্থ করার জন্য মনোনিবেশ করেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে তিনি সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করেন। তার মা ছিলেন অত্যন্ত সৎ একজন মানুষ। তাঁর মায়ের সততা ও ধর্মের প্রতি আনুগত্যের কারণে সারাদেশে তার নাম ছিল। লোকজন তাঁর মাকে বিশ্বাস ও সম্মান করতো। এমনকি তাঁর মায়ের কাছে অনেকেই তার আমানত রাখতো।

ইসলামকে সাধারণ মানুষের নিকট সহজ করে তুলে ধরা এবং মহান রাব্বুল আলামিনের বিধি-নিষেধ এবং হুকুম অনুসরণে জনসাধারণকে আকৃষ্ট করার ব্যাপারে তিনি ব্যাপক ভাবে কাজ করেছেন। তিনি তাঁর সমগ্র জীবনে কোরআন এবং সহীহ সুন্নাহর জ্ঞান সাধারণ মানুষের নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য কাজ করেছেন। কোরআন ও হাদিসের গবেষণার ক্ষেত্রে তিনি অনবদ্য অবদান রেখেছেন। আমরা যাকে ইজতিহাদ বলি এক্ষেত্রে তিনি তাঁর অবদান রেখেছেন। তাঁর জ্ঞানের পরিধি এবং চর্চা এবং গবেষণার এতটাই খ্যাতি ছিল যে তাকে সমসাময়িক যুগে ফকীহদের সর্দার বলা হতো।

অল্প বয়সেই কোরআন মুখস্থ করা পর তিনি মক্কায় মুসলিম আল-জানজী ও সুফিয়ান ইবনে উয়াইনার কাছ থেকে হাদিস ও ফিক্হ শাস্ত্র সম্পর্কে শিক্ষা লাভ করেন। এরপর তিনি মদিনায় যান। এবং মদিনায় গিয়ে ইমাম মালিক (রহ:)-এর নিকট ইলমুল ফিক্হ ও মুয়াত্তা শিক্ষা গ্রহন করেন। ১৭৯ হিজরিতে ইমাম মালিক মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তিনি ইয়েমেনে চলে যান এবং সেখানে গিয়ে তিনি শিক্ষাদান শুরু করেন। ১৮৯ হিজরীতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগটি ছিল এই যে তিনি শী’আহ বিশ্বাসের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। তাকে গ্রেফতার করে ইরাকে আব্বাসী খলিফা হারুন আর রশিদের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তিনি তার বিশ্বাসের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করতে পারায় তিনি সেখান থেকে মুক্ত হয়ে যান। তখন তার বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি ইয়ামানের চলে যান এবং সেখান থেকে আবার ইরাকে চলে আসেন। ১৯৮ হিজরী সনে তিনি মিশর গমন করেন।

তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের অগণিত শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ইমাম ইসমাঈল বিন আব্দুল্লাহ (রহ.), ইমাম সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ (রহ.), ইমাম মুসলিম বিন খালিদ (রহ.), ইমাম ওয়াকী বিন আল জাররাহ্ (রহ.) সহ আরো বহু জন। জ্ঞান অন্বেষণের পিপাসা তাকে সব সময় তৃষ্ণাত্ব করেছে। তিনি জ্ঞান অর্জন এবং তা প্রচার ও প্রসারের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম মদিনা সফর করেন। মদিনার পর তিনি ইয়ামানের উদ্দেশ্যে রওনা হন শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে। সেখানে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেন শিক্ষা ও জ্ঞান লাভের জন্য। কিন্তু তিনি সেখানে চক্রান্তের শিকার হলে তিনি ইয়ামান ত্যাগ করে আবার মক্কায় ফিরে আসেন। তিনি দুবার ইরাক সফর করেন। এছাড়াও তিনি মিশর সফর করেছেন। তিনি তার জীবনে অগণিত শিক্ষকের ভালোবাসা এবং ছাত্রের সম্মান পেয়েছেন। ২০৪ হিজরী রজব মাসের শেষ দিন জুম্মার রাত্রিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাব্বুল আলামিন তার জীবনের সব কাজগুলোকে সৎকর্ম হিসেবে কবুল করুক।