হাদিস শরীফ সংগ্রাহকদের জীবনী ও অবদান- ইমাম আবু দাউদ

dreamstime_s_173282255
Masjid Nabawi di MAdinah © Ayman Zaid | Dreamstime.com

ইমাম আবু দাউদ। ইলমে হাদিসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। হাদিস শরীফ সংগ্রহ গবেষণা অর্থাৎ হাদিস শাস্ত্রের যে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অবদানের জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে ইমাম আবু দাউদ অন্যতম। তিনি পার্শিয়ান ইসলামিক পন্ডিত হিসেবে পরিচিত। ইবনে আবু দাউদ ইরানের সিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন। হানবালি মাযহাবের অনুসারী ছিলেন ইমাম আবু দাউদ। তার পিতার নাম আশাআস। বিশুদ্ধ হাদিস শরিফের যে ৬ টি কিতাব রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি কিতাব হচ্ছে সুনানে আবু দাউদ। এই হাদীস শরীফ সংগ্রহ গবেষণা এবং বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের পরে তা লিপিবদ্ধ করেন ইমাম আবু দাউদ। তিনি সিজিস্তান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যা বর্তমান আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত। ওই সময়ে আব্বাসীয় খলিফা মামুন ছিলেন রাষ্ট্রক্ষমতায়। সেই সময় কে অর্থাৎ ২০২ হিজরী সাল, ইসলামিক জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চার সোনালী যুগ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

শৈশব

আসলে ইমাম আবু দাউদের প্রকৃত নাম হচ্ছে সোলাইমান। তার উপর নাম হচ্ছে আবু দাউদ। তার পূর্বপুরুষ ইমরান। যিনি যুদ্ধ সঙ্গী হিসাবে হযরত আলীর সাথে সঙ্গী হয়ে সিফফিনের যুদ্ধ শহীদ হয়েছিলেন। শৈশব থেকেই ইমাম আবু দাউদের ইসলামিক সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখা দেয় এবং শৈশব থেকেই তিনি জ্ঞান চর্চা করতে শুরু করেন। তার উপরে তার যখন জন্ম হয়েছিল ওই সময় একে বলা হতো ইসলামিক সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চার সোনালী যুগ। ফলের শৈশবে তিনি তার শহরে বিখ্যাত আলেম ও মুহাদ্দিসদের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। তাদের এই সান্নিধ্যের ফলে তিনি তার প্রাথমিক ধাপ গুলো অত্যন্ত সফলতার সাথে অতিক্রম করে উচ্চ শিখরে পৌঁছে ছিলেন। প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করার পরে তার ভেতরে হাদীসের জ্ঞান অর্জনের তৃষ্ণা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে।

জ্ঞান আরোহণ

এই তৃষ্ণা নিবারণের জন্য তিনি বিভিন্ন দেশে, শহরে নগরে ঘুরে ফিরেছেন। মিশর, বসরা, কুফা, মক্কা, বাগদাদ , আলজেরিয়া সহ বিভিন্ন ইসলামিক শহর নগর তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন। এবং এইসব কি স্থানের মুহাদ্দিসদের কাছ থেকে তিনি হাদিস আহরণ করেন ব্যাপকহারে। মহান রাব্বুল আলামিনের ইচ্ছায় তার ছিল অসাধারণ তীক্ষ্ণ স্মৃতিশক্তি। এই অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও মেধার জন্য কৈশোর থেকেই তার পরিচিতজনরা তাকে হাকিম খেতাবে ভূষিত করেছিলেন। এখানে বলে রাখা ভাল হাকিম এর অর্থ হচ্ছে প্রজ্ঞাবান। বলা হয়ে থাকে তিনি ধারাবাহিকতা সহ প্রায় পাঁচ লাখেরও অধিক হাদিসের হাফেজ ছিলেন। এমনকি এইসব হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম , বংশমর্যাদা, তাদের জীবন বৃত্তান্ত এবং প্রত্যেক বর্ণনাকারীর পার্থক্যসমূহ তার মুখস্থ ছিল। হাদিস অন্বেষণের জন্য তিনি অসংখ্য মুহাদ্দিসের সান্নিধ্য লাভ করেন। যাদের ভেতরে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আহমদ ইবনে সালেহ, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই, ইয়াহয়া ইবনে মাঈন, আলী ইবনুল মাদীনী, কুতাইবা ইবনে সাঈদ, সুলাইমান ইবনে হরব, আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামাহ, সাঈদ ইবনে মানুসুর, মুহাম্মদ ইবনে বাশ্শার, যুহাইর ইবনে হারব (রহ.) প্রমুখ।

কীর্তি সমূহ

এমনকি পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তার কাছে হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান গ্রহণের জন্য বিভিন্ন মানুষ ছুটে আসত। তিনি ছিলেন খোদাভীরু। তার সদাচরণ, ন্যায় পরায়ণতা, দানশীলতা, বিশ্বস্থতা, সততা ও সরলতা সকলের মন জয় করে নিয়েছিল। তিনি কোমল হৃদয়ের অধিকারী হলেও সত্য নয় প্রকাশ্যে ছিল বলিষ্ঠ। তাঁর রচনাবলির মধ্যে আল মারাসীল, আন নাসিখি ওয়াল মানুসূখ, কিতাবুজ যুহুদ, কিতাবুল কদর, কিতাবুল বা’ছি ওয়ান নুশুর, দালায়েলুন নুবুওয়াহ, ফাজায়েলুল আনসার, আখবারুল খাওয়ারেজ ও ইবতেদাউল ওহী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তবে তার শ্রেষ্ঠ রচনা হচ্ছে ‘সুনানে আবি দাউদ’। ক্ষণজন্মা এই জ্ঞানী ১৫ শাওয়াল মতান্তরে ১৬ সাওয়াল ২৭৫ হিজরী সনে ৭৩ বছর বয়সে বসরা নগরীতে ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তার জীবনের সকল কাজকে সৎকর্ম হিসেবে কবুল করুক।