হারানো নেকলেস এবং আল্লাহর পরিকল্পনার একটি গল্প

56975645 © Elena Schweitzer | Dreamstime.com

মক্কায় আবু বকর আনসারী নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কাদি আল মারিস্তানি নামেও পরিচিত ছিলেন।

তিনি মক্কায় অত্যন্ত ধার্মিক ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি তাঁর তাকওয়ার জন্য সুপরিচিত ছিলেন; তিনি এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি সর্বদা নিজেকে আল্লাহর ক্রোধ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতেন।

একটি হারানো মুক্তার নেকলেস

তিনি বর্ণনা করেন,“একদিন আমি মক্কার রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমি ক্ষুধার্ত ছিলাম এবং কিছু খাবারের সন্ধান করছিলাম। এসময় আমি একটি ব্যাগ পাই, যেটির ভিতর একটি ব্যয়বহুল মুক্তার মালা ছিল”

নেকলেসটি যেহেতু তাঁর না, তাই তিনি এটি বাড়িতে নিয়ে গেলেন এবং এর মালিকের সন্ধান করতে লাগলেন। 

একদিন তিনি একজনকে শুনতে পেলেন যে, সে ঘোষণা করছে, একটি মুক্তোর মালা হারিয়েছে এবং যে এটির সন্ধান দিতে পারবে তাঁকে অনেক পুরষ্কার দেওয়া হবে।

সুতরাং, আবু বকর লোকটির কাছে এসে বললেন, “দেখুন, আমি একটি নেকলেস পেয়েছি, তবে আপনাকে এটির বিবরণ দিতে হবে, যাতে এটি আপনার কিনা তা আমি জানতে পারি”

এরপর লোকটি যখন এটির পুরোপুরি বর্ণনা দিল, তখন তিনি তাকে এটি দিয়ে দিলেন। তবে লোকটি তাকে পুরষ্কার দিতে চাইলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলেন এবং লোকটিকে বললেন, “আপনার নিজের জিনিস আমি আপনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি, অতএব এটির কারণে পুরস্কার নেওয়া আমি ঠিক মনে করি না”

পরে আবু বকর যখন বুঝতে পারলেন যে, তিনি মক্কায় কাজ খুঁজে পাচ্ছেন না, তখন তিনি জাহাজে উঠে অন্য কোথাও যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।

এরপর তিনি জাহাজে রওনা দিলেন। কিন্তু হঠাত একটি ঝড় এসে জাহাজটিকে গুঁড়িয়ে দিল। এবং সেই জাহাজের অনেক লোক মারা গেল। আবু বকর এই ঘটনা সম্পর্কে বলেন, “আমি ভাগ্যক্রমে কাঠের একটি টুকরা ধরতে পেরেছিলাম এবং বাতাস আমাকে উড়িয়ে একটি দ্বীপে এনে ফেলেছিল”

তিনি যখন এই দ্বীপে পৌঁছালেন, তখন তিনি মানুষের সন্ধান করতে লাগলেন। তিনি সেখানে একটি মসজিদ খুঁজে পেলেন এবং ভিতরে গিয়ে বসে সুন্দরভাবে কুরআন তেলাওয়াত শুরু করলেন।

এই দ্বীপের লোকেরা কুরআনের এই সুন্দর-সুরেলা আবৃত্তি শুনে তাঁর দিকে এগিয়ে এল। এরপর তাঁকে বলল, “আপনি কীভাবে এত সুন্দর করে কুরআন তেলাওয়াত করতে জানেন, আপনি কি আমাদের এবং আমাদের বাচ্চাদের এটি শেখাবেন? এতে আমরা আপনাকে অর্থ প্রদান করব এবং আপনাকে থাকার জায়গা দেব।”

তিনি সম্মত হলেন এবং তারা তাঁকে অর্থ প্রদান করতে শুরু করল, এবং তাঁকে একটি বাড়ি নির্মাণ করে দিল।

এরপর, একদিন লোকেরা তাঁকে বলল, “আমাদের এবং আমাদের বাচ্চাদেরকে কীভাবে পড়তে এবং লিখতে হয় উভয়টিই শিখান এবং এতে আমরা আপনাকে আরও বেশি অর্থ প্রদান করব”

সুতরাং, তারা তাঁকে আরও বেশি অর্থ প্রদান করতে লাগল।

আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী

অনেকদিন এভাবে কাটানোর পর তিনি ভাবতে লাগলেন, “আমি এখানে অনেক দিন এসেছি, এখন জীবনের পরবর্তী অবস্থানে যেতে চাই”

লোকেরা যখন বুঝতে পারল যে, তিনি চলে যাবেন। তখন তারা তাকে ছেড়ে দিতে রাজি হল না। তারা তাঁকে এখানে রাখতে খুব ভাল পরিকল্পনা করল। তারা বলতে লাগল, “আমরা যদি তাঁকে এখানে বিয়ে করিয়ে দিই, তবে তিনি কোথাও যাবেন না”

একটি মেয়ে ছিল, যে সর্বাধিক ধার্মিক পরিবার থেকে ছিল এবং সর্বাপেক্ষা সুন্দরীও ছিল। এবং মেয়েটি সম্প্রতি এতিম হয়েছিল। সুতরাং, তারা মেয়েটিকে আবু বকরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করার চেষ্টা করল। তবে আবু বকর কোনোভাবেই রাজি হচ্ছিলেন না। অবশেষে অনেক পীড়াপীড়ির পর তিনি রাজি হলেন।

বিবাহ সাজানো হল এবং কনেকে আনা হল। আর এই মুহুর্তে পাত্রীর গলার আবরণ আবু বকরের দৃষ্টি আকর্ষণ করল, আর তিনি মাথা নামিয়ে কাঁদতে শুরু করলেন।

মানুষের জিজ্ঞাসায় তিনি বললেন, “আমি কাঁদছি তার কারণ হল, মেয়েটি যে নেকলেসটি পড়ে আছে সেটি আমি মক্কার রাস্তায় পেয়েছিলাম আর একজন ঘোষককে তা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম”

তখন তারা বলল, “তার বাবা এই নেকলেসের মালিক ছিলেন। এবং আমরা তাকে এই ব্যক্তির সম্পর্কে বলতে শুনতাম যে, তিনি মক্কায় তাঁর সাথে সাক্ষাত করেছেন, সেই লোকটি অত্যন্ত ধার্মিক মুসলমান ছিলেন; আমরা তাকে শুনতাম যে, খোলাখুলিভাবে আল্লাহর কাছে দুআ করতেন, যেন আপনি তাঁর মেয়ের সাথে বিবাহিত হন। এবং আপনি এখন এখানে আছেন!”

এরপর তাদের বিবাহ সম্পন্ন হল এবং সন্তান-সন্ততিও হল এবং তাঁরা অনেক সুখে শান্তিতে সম্মানের সাথে বসবাস করতে লাগলেন।