হারাম উপার্জন ইসলামে কেন নিষিদ্ধ

ID 165351770 © Sergei Chaiko | Dreamstime.com

হারাম পথে উপার্জন করা ইসলামে নিষিদ্ধ, তা হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। শুধুমাত্র উর্ধ্বমুখী লাভের অঙ্কের দিকে তাকিয়ে অন্যের কষ্টার্জিত সম্পদকে হস্তগত করা যে কোনো আইনেই হারাম হওয়া উচিত। ইসলামে হারাম ও হালাল জীবনযাপনের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এবং পবিত্র কুরানে স্পষ্ট উল্লেখিত আছে যে হারাম উপার্জনকারীরা ইসলামের রীতিরেওয়াজকে অস্বীকার করে ও শরীয়াত বিধি লঙ্ঘন করে।

হারাম পথে উপার্জন কী? তা ইসলামে নিষিদ্ধ কেন?

হারাম পথে উপার্জনের উদাহরণগুলি হলো ঘুষ, সুদ, কালোবাজারী, চোরাকারবারী, জুয়া-ফাটকা, প্রতারণা, লটারী ইত্যাদি। এই সমস্ত উপায়ে খুব কম পরিশ্রমে অথবা কোনো পরিশ্রম ছাড়াই প্রচুর অর্থের মালিক হওয়া যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই উপার্জন হয় অন্যকে বঞ্চিত করে। রাসূল (সা.) সমস্ত রকম রকম হারাম উপার্জন ও পন্থাকে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। ইসলাম ধর্মের প্রত্যেকটি বিধিনিষেধের পিছনে যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা আছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুসরণকারীদের উদ্দেশ্য সমস্ত নির্দেশ পবিত্র কুরাণে দিয়েছেন। ইসলামে হারাম উপার্জন নিষিদ্ধ হওয়ার কারণগুলি হলো:

হারাম উপার্জন বঞ্চনা ও অত্যাচারের উপর নিহিত থাকে

সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচার ও বঞ্চনার দ্বারা যে অর্থ উপার্জন করা হয় তা অবশ্যই হারাম। অপরকে সরাসরি বা কৌশলে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জন করা মানে সমাজের একটা শ্রেণী অসীম ধনসম্পদের মালিক হওয়া, এবং অপর শ্রেণী দারিদ্রের অন্ধকারে ঢেকে থাকে। এর ফলে যে যার প্রাপ্য অর্থ বা সম্মান কোনোটাই পায় না, সমাজে সৃষ্টি হয় অসন্তোষ, হিংসা ও আরও অনেক রকমের বিশ্রী সমস্যা। যারা ঘুষ নেয় তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করার জন্যও অপরের কাছে বলপূর্বক টাকা আদায় করে। এদের উদ্দেশ্যে রাসূল (সা:) বলেছেন, “যারা ঘুষ দেয় ও নেয়, তারা দুপক্ষই আল্লাহের অভিসম্পাতের শিকার।”

হারাম উপার্জন থেকে সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খলা

হারাম উপার্জন করা থেকে সৃষ্টি হয় বিভিন্ন রকম অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকারক অভ্যাস। এর উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে মদ, বেশ্যাবৃত্তির মতো অশ্লীল বেহায়াপনা। এসমস্ত জিনিসের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা নিজেদের স্নায়ুর উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, শয়তানের দ্বারা চালিত হয়। এদের থেকে সমাজে বাড়ি অন্যায়, অনাচার, খুন-জখম, ধর্ষণের প্রকোপ বাড়ে। এসমস্ত অপদ্রব্যের উপর কঠোরতম বিধিনিষেধ থাকলে তবেই সমাজ সুস্থ থাকবে।

হারাম উপার্জন থেকে অবৈধ কাজ বৃদ্ধি পায়

অবৈধ কাজকর্মের বৃদ্ধি সমাজে তখনই বৃদ্ধি পায়, যখন মানুষ নিজের যোগ্যতার থেকে বেশি পেয়ে যায়। হারাম উপার্জন এই কাজের পিছনে শক্তি যোগায়। যারা হারাম পথে উপার্জন করে, তারা আল্লাহ তাআলার ইবাদতের পথ থেকে সরে এসে বেছে নেয় বিলাস ব্যসনের পথ, ভুলে যায় সমস্ত ইসলাম ও দ্বিনের কর্তব্য। বিশাল প্রাসাদোপম অট্টালিকা, মদ, বেশ্যাগমন ইত্যাদি সমস্ত অবৈধ কাজই এদের থেকে সমাজে ছড়িয়ে পরে।

অপব্যয়ের পথে নিয়ে যায় হারাম উপার্জন 

হারামের পথে অর্থ উপার্জন হয়ে যায় সহজলভ্য, ফলে উপার্জনকারীর সেই সম্পদ দুহাতে খরচ করে। তাদের জীবনধারণে কোনোরকম নিরাপত্তা বা স্থিরতা। এই ধরনের জীবনযাপন যেকোনো সমাজের ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। হারাম উপার্জনকারীরা নিজেদের দায়দায়িত্ব পালনে অপারগ হয়, এবং অনেক্ষেত্রেই বদমেজাজি, দুর্ব্যবহারকারী হয়। ঠিক যেমন কৃপণতা একটি খারাপ অভ্যাস, অত্যাধিক ভয়ও সেরকমই ক্ষতিকারক অভ্যাস।

হারাম উপার্জন ও জুয়া

হারাম উপার্জনকারী ব্যক্তিরা জুয়ার প্রতি আসক্ত হয় কারণ এখানে চুটকিতে ভাগ্যপরিবর্তন করার হাতছানি থাকে। হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা জুয়া সময়ের সাথে সাথে আরও সর্বনাশা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা সুরা মায়েদা, আয়াত ৯০এ জুয়াকে স্পষ্ট ভাবে নাপাক ও হারাম বলেছেন। পাশা, তাস, রুলে, লটারি, ঘোড়দৌড় সব ধরণের জুয়াই প্রত্যেক ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের পরিহার করা অবশ্যকর্তব্য।

এই সমস্ত হারাম উপার্জনের পথ থেকে সরে এসে প্রত্যেক মুসলমানকে সৎ পথে ঈমানের সাথে নিজ কর্তব্যের পালন করতে হবে। এভাবেই সমাজ ও ব্যক্তিজীবনের উন্নতির মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার দেখানো পথে এগিয়ে যেতে পারব।