হালাল উপায়ে জলদি অবসর গ্রহণের ২টি কার্যকরী উপায়

retirement

চাকুরিরত প্রচুর লোকের সাথে আমাদের কথা হয় এবং একটি বিষয় আমরা অনেকের কাছ থেকেই শুনি। তা হল বেশিরভাগমানুষই সারা জীবন চাকরী করতে চায় না। তারা তাড়াতাড়ি অবসর নিতে চায়।

এই কারণে আজকের এই নিবন্ধের উদ্দেশ্য হল হালাল উপায়ে অবসর গ্রহণের দুটি কার্যকর উপায় নির্ধারণ করা যা আপনাকে তাড়াতাড়ি অবসর নিতে সাহায্য করবে।

এখন, সর্বপ্রথম আপনাকে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবেঃ

-আপনার সকল ঋণ পরিশোধিত আছে কিনা;

-হঠাত কোনো অসুবিধায় পড়লেও আপনার নিকট এই পরিমাণ অর্থ জমা আছে কিনা যা দিয়ে অন্তত ৬ মাস অতিবাহিত হয়ে যায়;

এই দুটি বিষয় বিবেচনা করে আসুন এবার মূল আলোচনায় যাওয়া যাক।

অর্থ বৃদ্ধি এবং তাড়াতাড়ি অবসর নেওয়ার দুটি প্রধান উপায় রয়েছে-

১) মিতব্যয়িতা এবং অর্থ সংরক্ষণ

২) বিনিয়োগ

নিম্নে এই দুটি পয়েন্ট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

মিতব্যয়িতা এবং অর্থ সংরক্ষণ

মিতব্যয়িতা অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা। অন্য কথায়,আয় বুঝে, ব্যয় করা। ব্যয়ের ক্ষেত্রে মধ্যমপন্থা অবলম্বন করাকেও মিতব্যয়িতা বলা হয়। মিতব্যয় মানুষের সম্পদ বৃদ্ধি করে। অন্যকে সাহায্য করার পথ উন্মুক্ত করে। মিতব্যয়িরা কখনো নিঃস্ব হয় না।

যে ব্যক্তি প্রতি মাসে এক মিলিয়ন উপার্জন করে এবং সবই ব্যয় করে দেয়সে আসলে ধনী হয় না। মূলত সেই ব্যক্তিই ধনী ও বুদ্ধিমান যে খরচ কমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে।

আপনি যদি চাকরী জীবনের শুরু থেকেই অর্থ খরচ কমিয়ে অর্থ জমানো শুরু করেন তবে তা আপনার ভবিষ্যত জীবনের জন্যও যেমনিভাবে ফলপ্রসূ হবে তেমনি আপনাকে তাড়াতাড়ি অবসর গ্রহণেও সাহায্য করবে।

অর্থ সাশ্রয়ের কিছু ব্যবহারিক উপায় রয়েছে। যেমন-

বাজেট তৈরি করাঃ আপনি যখন বেতন পাবেন, তখনই ব্যয় করার জন্য তড়িঘড়িকরবেন না। পরবর্তী বেতন পর্যন্ত আপনার কি কি প্রয়োজন হতে পারে তা বিবেচনা করে একটি ডাইরীতেলিখুন। পাশাপাশি প্রতিটি বিষয় কতটুকু প্র্যোজন তার পরিমাণও লিখুন। আপনার চাহিদা থেকে আপনার প্রয়োজনকেপৃথক করুন। এতে আপনার অর্থ সঞ্চয় করা খুবই সহজ হবে।

স্বল্প মূল্যের জিনিস ক্রয় করা: আপনি বিভিন্ন দোকান ঘুরলে দেখতে পাবেন যে, কিছু পণ্য স্বল্প মূল্যে কেনা যায়। স্বল্প মূল্যের একই পণ্য আপনি কেন বেশি মূল্য দিয়ে কিনতে যাবেন? স্বল্প মূল্যের গুণগত পণ্য কিনলে আপনি দেখবেন প্রতি মাসে আপনার ১০-১৫% অর্থই সাশ্রয় হচ্ছে।

একটির পরিবর্তে আরেকটি: যখনই কোনো নতুন পণ্য কিনবেন তখন অব্যবহৃত কোনো পণ্য বিক্রি করে দিন। এতে আপনার চাহিদাও পূরণ হবে। আর পুরাতন পণ্যটা ঘরে পড়ে থেকে নষ্টও হবে না।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষণ করা: কারও কারও জন্য নিজ বাড়িতে অর্থ সংরক্ষণ করা খুবই কঠিন। সামনে অর্থ দেখতে পেলেই তখন নতুন নতুন চাহিদা তৈরি হয়। তাই এক্ষেত্রে বাজেট তৈরীর পরেই উধ্বৃত অর্থ ব্যাংকে জমা করে ফেলুন।

বিনিয়োগ

“কেবলমাত্রঅর্থ সংরক্ষণ করে কেউ তাড়াতাড়ি অবসর নিতে পারে না।”

আপনি হয়ত এর পূর্বেও এমন কোনো কথা অবশ্যই শুনেছেনএবং এ কথাটি শতভাগ শত্য।মনে করুন, আপনি ২০বছর যাবত প্রতি সপ্তাহে ১০০০টাকা করেসঞ্চয়করেন যা ১০৪০সপ্তাহে হবে ১০ লক্ষ্যের চেয়ে হয়ত একটু বেশি।

কিন্তু বাস্তবাতা হচ্ছে আমরা এক মাসেও ১০০০ টাকা জমাতে পারি না। তাহলে সেক্ষেত্রে এই জমানোটাকার পরিমণটা কেমন হবে একটু চিন্তা করুন।

তাহলে এখন আমাদের কি করা উচিত?

এর সহজ সমাধান হল বিনিয়োগ করা।

তাহলে কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করবেন আসুন সেটা জেনে নিই।

১) স্টক এবং শেয়ার

২) সম্পত্তি

৩) নতুন কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগ

এগুলির মধ্যে নতুন কোনো ব্যবসায় বিনিয়োগটা হল সবথেকে ঝুকিপূর্ণ। তবে এটিতে লাভের পরিমাণও বেশি হয়। এছাড়াও বিনিয়োগের আরও অনেক ক্ষেত্র আছে। যারা ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে তাদের সাথে আপনি পরামর্শ করতে পারেন। কারণ, এই বিষয়গুলি কখনও ধ্রুবক থাকে না। মাঝে মাঝেই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। তাই সবচেয়ে উত্তম হবে বিনিয়োগের পূর্বে কোন খাতে বিনিয়োগ করবেন সেজন্য অভিজ্ঞ কারও সাথে পরামর্শ করুন।

উপসংহার

যদিও বেশিরভাগ মানুষই বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত চাকরী করতে চায় না, তবে তাদের সামনে কোনো গাইডলাইন না থাকার কারণে তারা কি করবে সেটি নির্ণয়ও করতে পারে না। আশা করি আমদের এই স্বল্প পরিসরের আলোচনা তাদের চিন্তার দ্বারকে উন্মুক্ত করবে।