শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

হালাল উপায়ে অর্থ সঞ্চয়, ভেবে দেখুন পাঁচটি বিষয়

আজকের দিনে টাকাপয়সাকে সঠিকভাবে কাজে না লাগালে আথবা সঞ্চয় সঠিক ভাবে না করলে আপনাকে অথৈ জলে পড়তে হবে। তাই আজ আমরা কথা বলব কিছু উপায় নিয়ে যা আপনাকে হালাল পথে অর্থ সঞ্চয় করতে দিশা দেখাবে।

পেনশন

প্রথমেই আসি পেনশনের কথায়, কর্মক্ষেত্রে পেনশনে আপনি কি অর্থসঞ্চয় করছেন? যদি না করে থাকেন তাহলে অবশ্যই করুন। এর থেকে আপনি সহজেই বেশ কিছু টাকা আয় করতে পারবেন সম্পূর্ণ হালাল পথে। আপনার পেনশন অ্যাকাউন্টে ” ইসলামিক” ও “শরিয়া”-এর মতো পদগুলির সন্ধান করুন। এর থেকেই আপনি জানতে পারবেন যে আপনার তহবিল শরিয়ত সম্মত হিসেবে সাইন আপ হয়েছে কিনা। পেনশন প্লাটফর্ম এর সাথে জড়িত সরবরাহকারীর কাছে এ ব্যপারে সন্ধ্যান করুন।

আপনার ব্যঙ্ক অ্যাকাউন্ট 

বেশিরভাগ মুসলমান মানুষ একটি মূলধারার ব্যাঙ্কের সাথে যুক্ত। বর্তমানের বেশিরভাগ মূলধারার ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টগুলি সুদ বা লোন এর প্রতিই আকৃষ্ট করে। এর ফলে একটা হারাম অর্থনীতি আপনাদের থেকে সুবিধা লুটছে কারণ বেশিরভাগ ব্যাঙ্ক আপনার অর্থ অন্য লোকেদের সুদ বা লোনে খাটায়। যদিও আপনি মূলধারার বাঙ্কের গ্রাহক হন তাহলেও সুদের টাকা দান করার থেকে না নেওয়াটাই বেশি ভালো।

যুক্তরাজ্যে  প্রবাসীর জানিয়েছেন, একমাত্র লয়েডস ব্যাঙ্ক ইসলামিক পথে টাকা লেনদেনের সুবিধা দেয়। কিন্তু তারাও নতুন গ্রাহকদের জন্য তাদের ইসলামিক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে দারুন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

যতদূর জানা যায়, মূলধারার ইসলামিক অ্যাকাউন্ট সেভাবে আর নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে  সবচেয়ে ভাল কাজ হ’ল আল রায়ান এর মতো একটি ইসলামী ব্যাংকের সাথে একটি বর্তমান অ্যাকাউন্ট খোলা।

দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আপনার যা প্রয়োজন তা সেখানে রাখুন, প্রয়োজনের বেশি যে কোনও অর্থ তাত্ক্ষণিক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, আপনার তা যেকোনো জায়গায় বিনিয়োগ করা উচিত।

আল রায়ানের মতো ব্যাঙ্ক দৈনন্দিন জীবনে কতটা কার্যকারী তা নিয়ে খতিয়ে দেখাও দরকার। যদি সমস্যা দেখা যায় এই ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে তাহলে এমন কোনো ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে যেখানে লোন পরিষেবা নেই। তাহলেই আপনার টাকা হারাম কাজে লাগবেনা এবং সমস্যারও সমাধান হবে।

ক্রেডিট কার্ড

একদল বিশেষজ্ঞর মতে, ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার মুসলিমদের জন্য হালাল।  সুতরাং আপনি এর ব্যবহার করতেই পারেন। তবে এক্ষেত্রে  অবশ্যই যেন আপনার ব্যাঙ্ক মাসের শেষে আপনার ঋণের পরিমান কেটে নেয় অ্যাকাউন্ট থেকে। অর্থাৎ আপনি সময়ে বিল মিটিয়ে দিলে আপনাকে কোনোরকম লেটফি দিতে হবে না অর্থাৎ আপনি সুদ দেওয়া থেকেও বিরত থাকছেন।

আপনার বিনিয়োগ

অর্থসঞ্চয়ের অন্যতম পথ হলো বিনিয়োগ করা। বিনিয়োগ করার জন্য বহু হালাল জায়গা আছে যেখানে লাভের হার বেশ লোভনীয়। একটু পরীক্ষা দেখে নিন যে আপনি যেখানে বিনিয়োগ করবেন তা হালাল পথে ব্যবসা করে কিনা। ব্যাঙ্কে টাকা রাখলেও আপনি হারাম কিছু করছেন না তবে কোথাও বিনিয়োগ করলে আপনারই সুবিধা বেশি। যদি শেয়ারে বিনিয়োগ করতে না চান তাহলে রিয়েল এস্টেটে করতে পারেন।

সর্বশেষে সমস্ত কিছুর হিসাব রাখুন। কোথাও বিনিয়োগ করে থাকলে অথবা কারও কাছে ধারদেনা থাকলে সমস্ত কাগজপত্র একটি জায়গায় গচ্ছিত রাখুন এবং নিয়মিত আপডেট রাখুন। এর ফলে আপনারও কোনো অসুবিধা হবে না এবং আপনার সন্তান বা উত্তরাধিকারীরাও সহজে সব কিছু করতে পারবে।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন