SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

হিজরাহ: মুসলিম দেশগুলির অভিবাসনকে কেন স্বাগত জানানো উচিৎ

সমাজ ১৯ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
হিজরাহ
Photo by Tomáš Malík from Pexels

প্রায় ত্রিশ কোটি মুসলিম – বর্তমানে বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাস করছেন। তাঁরা প্রতিকূল পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত যে সমস্যার সম্মুখীন হন, সেটা মুসলিম দেশের নাগরিকদের কল্পনাতীত। তবে সব দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সমান নয়, সেই কারণে সব দেশেই সংখ্যালঘু মুসলিমরা সমান বিরোধিতার মুখে পড়েন, তা ভেবে নেওয়া অনুচিত।

তার পরেও একটা কথা বলা যায় যে, আধুনিক পৃথিবীতে বিভিন্ন ঘটনা প্রসঙ্গে মুসলিমদের উপরে যে চাপ প্রয়োগ করা হয়, তা অস্বীকার করার জায়গা নেই। ফ্রান্সে বোরখার উপর নিষেধাজ্ঞা থেকে শুরু করে আমেরিকার মুসলিম বিদ্বেষ, তা-ই ইঙ্গিত করে।

কেউ কেউ তর্ক করতে পারেন, মুসলিমরাই নিজেদের এই অবস্থার জন্য দায়ী। অল্প সংখ্যক মুসলিম, যাঁরা হিংসার সাথে জড়িত তাঁরাই সারা পৃথিবীতে ইসলামের প্রতি ঘৃণা আর বিদ্বেষ তৈরির জন্য দায়ী।

কিন্তু অ-মুসলিম দেশগুলি কেন ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তা নিয়ে ভাবার পরিবর্তে, মুসলিম দেশগুলিকে প্রশ্ন করা উচিত – আমরা মুসলিমদের জন্য কী করেছি?

মুসলিম অভিবাসীদের জন্য মুসলিম দেশ

মোট ৫৭টি মুসলিম দেশ আছে –তবু আমাদের ভ্রাতৃসমদের কেন নিজস্বতা বজায় রাখার জন্য অপমান সহ্য করতে হয়, এই বিষয়টি নিয়ে কত জন ভেবেছেন?

আজ পর্যন্ত কতগুলি মুসলিম দেশ মুসলিম অভিবাসী এবং শরণার্থীদের গ্রহণ করতে এগিয়ে এসেছে? প্রশ্ন ওঠে, এই দেশগুলির সরকার কি নিজেদের আইন মানে না?

আমরা ইসলাম-বিরোধী নীতির জন্য ফ্রান্স-আমেরিকার সমালোচনা করি, কিন্তু সেখানে বসবাসকারী মুসলিম ভাইদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিই না। অথচ আমাদের ইজরায়েল ইহুদি অভিবাসন (আলিয়াহ) নীতির মাধ্যমে আরও শক্তিবৃদ্ধি করছে। কোনও ইহুদি ইজরায়েলে প্রবেশ করলেই নাগরিকত্ব অর্জন করে।

ইসলামে হিজরাহ (মুসলিম ভূমিতে অভিবাসন) একটি প্রাথমিক ধারণা। যার সাথে আধুনিক মুসলিম দুনিয়া পরিচিত নয়। হাজার হাজার মুসলিম মধ্যপ্রাচ্যে কাজের জন্য যান ও বসবাস করেন, তারা যাতে মুসলিম হিসেবে লজ্জিত না হন এবং তাদের ধর্মবিশ্বাস পালনে কোনও বাধা না থাকে। এটিই হল হিজরাহের মূল উদ্দেশ্য।

হিজরাহের অনলাইন ফোরামে বিশ্বজুড়ে কয়েক হাজার সদস্য আছেন যাঁরা মুসলিম দেশে এসে বসবাস করার জন্য সাহায্য আর পরামর্শ চান। কারণ, ৯/১১-এর পর থেকে অ-মুসলিম দেশগুলিতে মুসলিমদের অবস্থান আরও খারাপ হয়েছে। ফলে সকলেই ঘোর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

হিজরাহ – সব দিক থেকে লাভ হওয়ার সমাধান

মুসলিম দুনিয়া আজ যত রকম সমস্যার সম্মুখীন, সেগুলির সমাধান হিজরাহ-এর মাধ্যমে সম্ভব। অথচ বহু মুসলিম দেশই এই বিষয়ে উদাসীন। এই কারণে কয়েক বছর আগে অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কনফারেন্সে হিজরাহের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। ৫৭ টি মুসলিম দেশই এই সংগঠনের সদস্য। এই সংগঠনের দাবি, তারা বিশ্বের সমস্ত মুসলিমদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত ও স্বার্থরক্ষা করে।

কিন্তু এই সংগঠনও হিজরাহের বিষয়ে বেশি কিছু করতে পারেনি, তার কারণ হল, এটি দেশগুলির সার্বভৌমত্বর বিষয়। আর এই সংগঠনে সদস্য দেশগুলির ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় না।

হিজরাহ ও অভিবাসনের অর্থনৈতিক লাভ

বর্তমান বিশ্বের মুসলিম দেশগুলি মুসলিম ভাইদের অভিবাসন নিয়ে উৎসাহী নয়, হয়তো এর প্রধান কারণ দেশের সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া বা চুরি যাওয়ার চিন্তা।

কিন্তু বিষয়টিকে অন্যভাবেও দেখা যেতে পারে। মুসলিম সংখ্যালঘুদের সাহায্য করলে তা মুসলিম সমাজকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। প্রাথমিক ভাবে এর জন্য কিছু ত্যাগ স্বীকার করতে হলেও, ভবিষ্যতে এর সুফল মিলবে।

মুসলিম অভিবাসন নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সাথেই শুরু হয়েছিল (মক্কা থেকে মদিনা যাত্রা)। অভিবাসনের ফলে যে কোনও দেশ সবথেকে বেশি লাভবান হয়, কারণ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে নাগরিক। আর এই মানব সম্পদই দেশের উন্নতিতে সাহায্য করে।

১৯৪৭ সালে হিন্দুস্তান টুকরো হওয়ার পরে কয়েক লক্ষ মুসলিম ভারত থেকে পাকিস্তানে আসে। ভারত থেকে আসা অধিকাংশ উচ্চশিক্ষিত নাগরিকরা করাচিতে বসবাস করতে শুরু করেন, যার ফলে এই শহরকে পাকিস্তানি ঐতিহ্যের পীঠস্থানে পরিণত হয়। বর্তমানে পাকিস্তানের মোট আর্থিক সম্পদের ৬৫ শতাংশ এই শহরেরই অবদান।

আমাদের দৃঢ় বিশ্বাসের প্রয়োজন

মুসলিম দুনিয়ার সমস্যা হল বিশ্বাসের অভাব। আমরা মুসলিমরা হীনম্মন্যতায় ভুগি এবং তাই আমাদের মধ্যে একতার অভাব রয়েছে। এর সমাধান একটাই, সাধারণ মুসলিম জনগণ এবং নেতাদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর আস্থা রেখে এক হতে হবে। একটু পিছনে তাকালেই ইতিহাসে দেখা যাবে, ইসলামের উপরে ভরসা রেখে মুসলিমরা সেরা সভ্যতা গড়ে তুলেছিল। হিজরাহকে আপন করে নিলে, অবহেলিত সংখ্যালঘু মুসলিমরা সম্পদে পরিণত হবেন এবং সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই দেশকে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাশালী দেশে পরিণত করবেন।