হিজাব বা পর্দা সংক্রান্ত সংজ্ঞা ও শর্তসমূহ জেনে নিন

পরিবার Contributor
world hijab day

হিজাব বা পর্দা শব্দের অর্থ আবৃত করা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায়, অশ্লীলতা ও ব্যভিচার নিরসনকল্পে নারী-পুরুষ উভয়ের তাদের নিজ রূপ-লাবণ্য ও সৌন্দর্যকে একে অপর থেকে আড়ালে রাখার জন্য ইসলাম যে বিশেষ ব্যবস্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছে, তাকে হিজাব বা পর্দা বলা হয়।

পর্দার জন্য যে পোশাক পরিধান করা হবে সেটি সম্পর্কে ইসলাম কিছু দিকনির্দেশনা বা শর্ত আরোপ করেছে। এই শর্তসমূহ পূরণ হলেই তাকে ইসলামী হিজাব বা পর্দা বলা হবে। শর্তসমূহ নিম্নরূপঃ

১) সমগ্র শরীর আবৃত করে

মুসলিম মহিলা যে পোশাক পরিধান করবে তাতে যেন পর্দা সম্ভব হয়; অর্থাৎ সেই পোশাক যেন তার সমস্ত শরীরকে আবৃত করে। সুতরাং, যে পোশাক পরিধান করলে নারীর মুখমন্ডল, চুল, গ্রীবা, বুক, পেট ও পৃষ্ঠদেশের কোনো অংশ অনাবৃত থেকে যায় (যেমন, শাড়ি ও খাটো ব্লাউজ) বা কোনো অংশ প্রকাশিত থাকে তা পর-পুরুষদের সামনে পরিধান করা হারাম। এ পোশাকে কখনই পর্দা হবে না।

২) হিজাব বা পর্দা যেন আকর্ষণীয় বা দৃষ্টনন্দন না হয়

নারী পর্দার জন্য যে পোশাক পরিধান করবে তা যেন এমন সৌন্দর্যময় ও দৃষ্টি-আকর্ষণকারী না হয় যা পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে। সুতরাং, এমব্রয়ডারি করা চকচকে রঙিন বোরকা পরলেও তা পর্দার অন্তর্ভুক্ত হবে না।

৩) খুব পাতলা না হয়

পর্দার জন্য পরিধেয় পোশাক যেন এমন পাতলা না হয় যাতে ভিতরের চামড়ার রঙ বা শরীরের কোনো অঙ্গ নজরে আসে। অতএব পাতলা শাড়ি, পাতলা উড়না প্রভৃতি মুসলিম মহিলার পর্দার পোশাক নয়। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে বলেছেন,

“দুই শ্রেণীর মানুষ জাহান্নামের অধিবাসী হবে; যাদেরকে আমি এখনও দেখিনি। (অর্থাৎ, তারা ভবিষ্যতে আসবে।) প্রথম শ্রেণী হল সেই অত্যাচারীর দল যাদের সঙ্গে থাকবে গরুর লেজের মত চাবুক, যা দ্দারা তারা মানুষকে প্রহার করতে থাকবে। আর দ্বিতীয় শ্রেণী হল সেই নারীদল; যারা কাপড় তো পরিধান করবে, কিন্তু বস্তুত: তারা উলঙ্গ থাকবে। যারা পুরুষদেরকে আকৃষ্ট করবে এবং নিজেরাও তাদের প্রতি আকৃষ্ট হবে, যাদের মস্তক (খোপা বাঁধার কারণে) উটের হিলে যাওয়া কুঁজের মত হবে। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না আর জান্নাতের গন্ধও তারা পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ ৫০০ বছরের দূরবর্তী স্থান থেকেও পাওয়া যায়।”

৪) খুব আঁট-সাঁট বা টাইট না হয়

পর্দার জন্য পরিধেয় পোশাক যেন এমন টাইট-ফিট বা আঁট-সাঁট না হয়; যাতে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উচ্চতা, নীচতা এবং আকার-আকৃতি কাপড়ের উপর থেকেও বোঝা যায়। এ ধরণের পোশাক পরিহিত অবস্থায় নারী যদি তার সর্বাঙ্গও ঢেকে ফেলে তবু ইসলামের দৃষ্টিতে তাকে পর্দা বলা হবে না।

৫) পুরুষদের পোশাকের অনুরূপ না হয়

নারীদের পোশাক যেন পুরুষদের পোশাকের অনুরূপ না হয় সে ব্যাপারে খুব সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। নারীদের জন্য পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণ করা হারাম এবং কবীরা গুনাহ। সুতরাং প্যান্ট, শার্ট প্রভৃতি পুরুষদের মত পোশাক কোনো মুসলিম মহিলা পরিধান করতে পারে না। এছাড়া পুরুষদের ন্যায় বেশধারিণী নারীদের উপর আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “নারীদের ন্যায় বেশ ধারি পুরুষের উপর আল্লাহর অভিশাপ এবং পুরুষদের ন্যায় বেশ ধারিণী নারীদের উপরও আল্লাহর অভিশাপ”।

৬) কোনো বিজাতিদের সাদৃশ্য না হয়

তদ্রূপ নারিদের পোশাক যেন কাফের মহিলাদের অনুরূপ না হয়। অবশ্য ঢিলা ম্যাক্সি ও সালোয়ার কামিজ এবং তার উপর চাদর বা উড়না; যা মাথার চুল, বুক ইত্যাদি আচ্ছাদিত করে তা মুসলিম নারীর পোশাক। আর উড়না বা চাদর ছাড়া শুধুমাত্র সালোয়ার কামিজ বা ম্যাক্সি কাফির মহিলাদের পোশাক। অনুরূপ শাড়ি যদি সর্বশরীরকে আবৃত করে নেয় তবে তা মুসলিম নারীদের পোশাক; আর শরীরের কোনো অংশ অনাবৃত করে পড়লে তা অমুসলিম মহিলাদের পোশাক।

এ সম্পর্কে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি যে জাতির অনুকরণ করবে, সে সেই জাতিরই অন্তর্ভুক্ত এবং তাদের সাথেই তার হাশর হবে।”

৭) পোশাকের মাধ্যমে যেন অহংকার প্রকাশ না পায়

পোশাক যেন এমন জাঁকজমক ও আড়ম্বরপূর্ণ তথা প্রসিদ্ধি জনক না হয় যাতে করে অন্যের উপর অহংকার প্রকাশ করা হয়।

৮) সুগন্ধিযুক্ত বা সুরভিত না হয়

হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে, যে নারী সুগন্ধি ছড়িয়ে লোকালয়ে যায়, সে বেশ্যা নারীর ন্যায়। তাই মুসলিম নারীর পোশাক যেন এরূপ না হয়।

উল্লেখ থাকে যে, নারীদেহে যৌবনের চিহ্ন দেখা দেওয়া মাত্রই এই শর্তসমূহের আলোকে পোশাক পরিধান করা তার জন্য ওয়াজিব।