SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

হৃদরোগ এবং শর্করা নিয়ন্ত্রণে উপকারী পাকা পেঁপে

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ১১ সেপ্টে. ২০২০
পেঁপে খাওয়ার উপকারীতা

বাড়িতে ছোট কিংবা বয়স্ক মানুষদের শারীরিক পুষ্টির জন্য সবসময়েই আমাদের আলাদা একটা চিন্তা থাকে। পরিমিত আহার এবং পরিমিত ঘুম কিন্তু সুস্থ এবং নীরোগ স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবেই প্রয়োজন। বাড়িতে ছোট ছোট শিশুরা অনেকসময়েই জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রতি বেশি আগ্রহ থাকে, সেই তুলনায় ফল, শাক-সবজি সেই মতো খেতে তারা পছন্দ করে না। শারীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ফলের ভূমিকা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য। মরশুমি বিভিন্ন ফলের কথা বলা প্রসঙ্গে আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হল পাকা পেঁপের উপকারিতা।

কাঁচা এবং পাকা উভয় মাধ্যমেই পেঁপে সুস্বাস্থ্যের জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ করে খাওয়ার পাশাপাশি অনেকসময়েই কাঁচা পেঁপে দিয়ে বিভিন্ন তরকারি প্রস্তুত করা হয়। আর পাকা পেঁপে ফ্রুট স্যালাড তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। আপেল, আঙুর, বেদানা এবং পাকা পেঁপে এই নিয়ে বেশ ভালই ফ্রুট স্যালাড আপনি তৈরি করে নিতে পারবেন খুব সহজে।

একটা সময়ে মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকোতে পেঁপের চাষ শুরু হলেও বর্তমানে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তেই ফলটির চাষ করা হয়ে থাকে।

এনজাইমের উৎস

পাকা পেঁপে সাধারণত এনজাইমের উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পাপাইন এবং কিমোপাইন নামক এনজাইম। এই উৎসেচক বা এনজাইম খাবার হজমে সাহায্য করে। যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে তারা অবশ্যই পাকা পেঁপে খেতে পারেন।

ফাইবারের উপস্থিতি

পাকা পেঁপের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার জাতীয় পদার্থ। সাধারণত ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি দেহের মেদ বা চর্বি নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

ভিটামিনে সমৃদ্ধ

পাকা পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, সি এবং ই। এই প্রত্যেকটিই আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে বিশেষভাবে সহায়ক। এখানে অবশ্য উল্লেখ্য যে ভিটামিন এ কিন্তু চোখের সমস্যাতেও ভাল কাজ করে।

খনিজ পদার্থ

এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং কপার ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ। এইসবই আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। ক্যালশিয়াম আমাদের হাড়ের গঠনে সাহায্য করে, দাঁত মজবুত করতেও সাহায্য করে এটি। এই ক্ষেত্রে আরও একটা বিষয় উল্লেখ করতে হয় পটাশিয়ামের উপস্থিতির কারণে এটি আমাদের শরীরে রক্ত সঞ্চালনের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া শরীরে জলের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সাহায্য করে থাকে এটি।

মধুমেহ রোগে

ডায়াবেটিসের সমস্যা যাদের রয়েছে তাদের জন্য পাকা পেঁপে বিশেষভাবে উপকারি। দৈনিক পাকা পেঁপে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। শরীরে কার্বোহাইড্রেটের ব্যালান্সেও সাহায্য করে থাকে।

ডেঙ্গু রোধে

সম্প্রতি দেখা গিয়েছে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে পাকা পেঁপের পাতা থেকে প্রস্তুত জুস রক্তে প্লেটলেটের ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে।

পটাশিয়াম

পটাশিয়ামের কারণে শরীরে রক্ত সঞ্চালন যেমন ঠিকমতো হয়, একইরকমভাবে পাকা পেঁপে আমাদের শরীর থেকে সোডিয়াম জাতীয় পদার্থ বের করে দিতেও সাহায্য করে। যারফলে হৃদরোগের সমস্যা অনেকাংশেই উপশমিত হয়। হার্টের সুস্থতাও বজায় থাকে।

এনজাইম

পেঁপের মধ্যে উপস্থিত প্রোটিওল্যাকটিক এনজাইম, প্রোটিন জাতীয় খাদ্যবস্তু হজমে সাহায্য করে। একইসঙ্গে এই এনজাইমের উপস্থিতি ক্যানসার রোগ নিরাময়েও বিশেষভাবে কার্যকর।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

পেঁপের মধ্যেকার ফাইবার, ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান। যা আমাদের ধমনীতে কোলেস্টেরল জমতে বাধা দেয়, ফলে হার্টের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।

সুতরাং, আমরা বলতে পারি বহুগুণে সমৃদ্ধ পাকা পেঁপের কোনও বিকল্প নেই, তাই প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই একে রাখার চেষ্টা করুন।