হৃদয়ের পবিত্রতা সম্পর্কে সন্তানকে বোঝাবেন কীভাবে?

Jeune fille, mère, puberté peur
© Rawpixelimages | Dreamstime.com

একটা ছোট গল্প দিয়ে শুরু করি।

সুলাইহা একটি মিষ্টি মেয়ে। বছর পাঁচেক বয়স, মা বাবার সঙ্গে এক ছোট্ট শহরে সে বাস করে। ছোট্ট মেয়েটি যেন আনন্দের প্রতিমূর্তি। যেখানে যায় চারপাশ আলো হয়ে ওঠে। এহেন সুলাইহার একদিন প্রবল জ্বর হল। সাধারণ সর্দি কাশি থেকে তুমুল জ্বর। তার মা তাকে কোলে করে ডাক্তারের কাছে যেতে যেতে শরিয়া অনুমোদিত রুকিয়াহ পাঠ করছিলেন ক্রমাগত। আর ছোট্ট সুলাইয়াহ জ্বরের ঘোরে বারবার বলছিল, ‘আমার সামনে কুর-আন পাঠ করো। কেউ আমাকে ভালবাসলে আমার সামনে কুর-আন পাঠ করো।‘ 

এই ছোট্ট শিশুটি কী করে বুঝল যে কুর-আন তার শেষ আশ্রয় হতে পারে অসুস্থতার সময়? শুধু তাই নয়, অনেক শিশুই আল্লাহর প্রতি অটুট ভক্তি শুরু থেকেই দেখায়। আল্লাহর প্রতি শিশুর এমন ভক্তি দেখানোর কারণ খুঁজলে প্রথমেই যেটা বোঝা যায় সেটা হল, শিশুর মন ও মনন অনেক বেশি সহজ, তাই আল্লাহ তা’আলা সহজেই তার কাছে আসেন। সে আল্লাহর কাছে সহজেই নিজের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। 

হৃদয়ের পবিত্রতাঃ
শিশুর হৃদয় আয়নার মতো, পানির মতো পবিত্র। তাতে খুব সহজেই চির খেয়ে যেতে পারে, বা দাগ ধরে যেতে পারে। কিন্তু এই পবিত্র হৃদয়ের জন্যই আল্লাহর বাণী তারা খুব সহজে বুঝতে পারে। পিতা মাতার এই বিষয়টি খেয়াল রাখা উচিৎ। শিশুর হৃদয়ের পবিত্রতা বজায় রেখে তাঁকে আল্লাহর বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া উচিৎ। মুসলমান পণ্ডিতদের মতে একটি শিশু তাওহিদ নিয়ে জন্মায়। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস তার বরাবর থাকে। সেই বিশ্বাস ও ভরসা ও হৃদয়ের পবিত্রতাকে বাবা ও মা-ই পারেন প্রকৃত শিক্ষায় পরিবর্তিত করতে। 

হাদিসে বলাই রয়েছে, যে পূত পবিত্র থাকতে চায়, আল্লাহ তাকে পূত পবিত্র রাখেন। (সহীহ বুখারী)

শিশুকে বড় করে তোলা আসলে একটি সাধনা। আপনি যদি আপনার সন্তানের চারপাশ আল্লাহর পবিত্রতায় ভরে তুলতে পারেন তাহলে শিশুও পবিত্র হয়ে ওঠে। তার কল্পনাপ্রবণ মনে আল্লাহর ভক্তি ছাপ ফেলে। সে হয়ে ওঠে প্রকৃত ইমানদার ও জিম্মাদার মুসলমান। যদি আপনি আপনার সন্তানকে অবহেলা করেন, তাহলে সে কিন্তু ইবলিশের প্রভাবে প্রভাবান্বিত হয়ে যাবে। সন্তানকে আল্লাহর পথে গড়ে তুলুন। 

শিশুর বড় হয়ে ওঠাঃ 

বড় হওয়ার সময় প্রথম পাঁচ বছর শিশু সমস্তকিছু বাবা মায়ের কাছ থেকে শেখে। শিশুকে তখন সহজেই সমস্ত কিছু শেখানো যায়। যেহেতু মানুষের শৈশব সবচেয়ে বেশি সময় ধরে অতিবাহিত হয় তাই অনেক বেশি সময় ধরে শিশু পবিত্র, নমনীয় ও নতুন বিষয় সহজেই গ্রহণ করতে পারে। পিতা মাতা খুব সহজেই সন্তানের মধ্যে নানাপ্রকার সুগুণ তৈরি করে দিতে পারেন। পণ্ডিত মার্গারেট মেহলারের মতে ,  জন্মের পর থেকে তিন বছর পর্যন্ত শিশু কাদার তাল। তাকে যা ইচ্ছে ভাবে গড়ে নেওয়া যায়।
শিশু হল পিতা মাতাকে আল্লাহর দেওয়া শ্রেষ্ঠ উপহার। তাই পিতা মাতার দায়িত্ব এই উপহারের সঠিক দেখভাল করা ও তাকে আল্লাহর পথে নিয়ে যাওয়া। তার জন্য কুর-আন পাঠ, শৃঙ্খলা , মানুষের প্রতি কর্তব্যের শিক্ষা, নিয়মিত নমাজ পড়া, কুর-আন ও হাদিসের মাহাত্ম্য বোঝানো সবই পিতা মাতার কর্তব্য। 

ইবন আল জাওয়াজি বলেছেন, শৈশবেই শিশুকে নিয়মে বাঁধতে হবে যাতে সে জীবনের সেরা শিক্ষা পায়। 

শৃঙ্খলা ও আল্লাহর প্রতি অটুট ভক্তিই শিশুকে ইমানদার মুসলমান করে তুলবে।