১০ মিনিটে ফোনের ব্যাটারি ফুলচার্জ, স্মার্ট চিপের আবিষ্কর্তা রচিদ ইয়াজমি

Battery low concept. Battery low on smartphone screen in busines
ID 140170471 © Penguiin | Dreamstime.com

অত্যাধুনিক সমাজের  সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলেছি আমরা। ছুটে চলেছি দিগ্বিদিক কর্মব্যস্ততায়, যোগাযোগে কোনো ঘাটতি না থাকায় কাছের মানুষজনের সাথে মিষ্টি সম্পর্ক গুলো সুন্দর আছে। সামনাসামনি একে অপরকে সময় না দিতে পারলেও ফোন আমাদের সেটা মিটিয়ে দিয়েছে। মোবাইল এখন এত বেশি গুরুত্বপূর্ণ যে মোবাইল ছাড়া এক পা হাঁটাও যেন মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার সমস্যা হচ্ছে, সারাদিন কোনো না কোনো কাজে মোবাইল ব্যবহার করার ফলে ফোনে চার্জ দেওয়া হয় না। দিনের শেষে বাড়ি ফিরে  রাতে চার্জ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ছেন, এতে ফোনের ব্যাটারি খুব তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যাচ্ছে।

এবার আপনার ফোনের ব্যাটারি যদি দশ মিনিটের মধ্যেই চার্জ করতে পারেন তাহলে কেমন হয়? কি হল, অবাক হচ্ছেন?

হ্যাঁ সবাইকে অবাক করে দিয়ে একজন মরক্কোর বিজ্ঞানী এই অসম্ভব কাজটা সম্ভব করে তুলেছে। এই বিজ্ঞানীর নাম রচিদ ইয়াজমী। তিনি এমনই একটি ডিজাইনার চিপ আবিষ্কার করেছেন। এই চিপ ফোনের ব্যাটারির সাথে লাগালে আপনি দশ মিনিটের মধ্যেই ফোনে চার্জ করে নিতে পারবেন। এমনকি ব্যাটারি সংক্রান্ত নানা তথ্যও জানতে পারবেন। যদি ফোনের ব্যাটারীতে কোনো সমস্যা থাকে তাও খুব সহজেই জানা যায় এই চিপের সাহায্যে। এর পাশাপাশি ব্যাটারির অবক্ষয় ও চার্জের সঠিক অবস্থা জানার জন্যও এই চিপ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বিজ্ঞানী রচিদ ইয়াজমী জানিয়েছেন যে তাঁদের ভবিষ্যতে লক্ষ্য হল প্রত্যেক ব্যাটারীর সাথে এই চিপ লাগানো, ফলে বৈদ্যুতিক ডিভাইস ও বৈদুতিক  যানবাহনে অগ্নি সংযোগের ভয়টা কম থাকবে। ফোন হবে আগের তুলনায় আরো বেশি নিরাপদ এবং খুব সহজেই ফোনের বিভিন্ন সরঞ্জাম আমরা ব্যাবহার করতে পারব।

বেশিক্ষণ  চার্জ দেওয়ার ফলে ফোন গরম হয়ে গিয়ে অনেক ক্ষতি হয়, তা থেকে অনেকটাই মুক্তি মিলবে। এই চিপটি প্রায় পাঁচ বছর গবেষণার পর ইয়াজমী আবিষ্কার করতে পেরেছেন। সিঙ্গাপুরের এই বিজ্ঞানী বর্তমানে নানিয়াং টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণা করেন।

১৯৮০ সালে লিথিয়াম ব্যাটারী আবিষ্কারকদের মধ্যে রচিদ ইয়াজমি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারক ছিলেন। পঞ্চাশটা পেটেন্টের অধিকারী ইয়াজমির ব্যাটারী সম্পর্কে প্রায় দুশোর বেশি থিসিস আছে। ফ্লুঅরাইড আইয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন এবং গবেষণায় তাঁকে অগ্রণী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। লিথিয়াম প্রাইমারী, রিচার্জবল ব্যাটারি এবং ফ্লুঅরাইড আইয়ন ব্যাটারি সংক্রান্ত ২৫০তি গবেষণা পত্র লিখেছেন তিনি। ১৫০টিরও বেশি পেটেন্টের সহ মালিকানা রয়েছে তাঁর। বিশ্ব ব্যাটারি অ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি ছিলেন তিনি।

২০১৯ সালের অক্টোবরে রসায়নে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে লিথিয়াম আইয়ন ব্যাটারির গবেষণাকে সমান স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু নোবেল তালিকায় ইয়াজমির নাম বড় পড়ে। বরং এই অবিষ্কারে তাঁর সহযোগীদের নাম উল্লেখ করা হয়। ইয়াজমি অবশ্য হাসিমুখে বিজয়ীদের সাধুবাদ জানান।

স্বাভাবিক ব্যাটারি বেশি ক্ষতিকর, উত্তাপ সৃষ্টির ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এই তুলনায় স্মার্ট ব্যাটারীতে যদি চিপ  লাগানো যায় তাহলে হঠাৎ ক্ষতির থেকে অনেক নিরাপদে থাকা যায়।

বর্তমানে সিঙ্গাপুরের নানইয়াং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রচিদ ইয়াজমির এই আবিষ্কার মানব জীবনে দারুণ ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে।