১২ লাখ বিদেশি কর্মী চাকরি হারাবে সৌদি আরবে, চিন্তায় বাংলাদেশিরা

বিশ্ব Tamalika Basu ২৫-জুন-২০২০
Saudi Arabia
Saudi Arabia Riyadh landscape at Mourning - Riyadh Tower Kingdom Centre, Kingdom Tower, Riyadh Skyline - Burj Al-Mamlaka, AlMamlakah - Riyadh at Daylight - Tower View

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব। এ দেশটিতে বর্তমানে বিভিন্ন খাতে কর্মরত রয়েছে প্রায় ২২ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে গত তিন মাসে এক লাখেরও বেশি মানুষের সৌদি আরবে যাওয়া আটকে গেছে। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ছুটি কাটাতে বাংলাদেশে এসে আর ফিরতে পারেনি।

এদিকে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের আগ পর্যন্ত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দুই লাখের বেশি অভিবাসী শ্রমিক ফেরত এসেছে। গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মার্চে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের আগ পর্যন্ত, সৌদি আরব থেকে ৪১ হাজারের মতো শ্রমিক দেশে ফিরেছে। পরে চার্টার্ড বিমানে ফিরেছে আরো ১৩ হাজারের বেশি। তাদেরও একটি বড় অংশ সৌদি আরব থেকে এসেছে। এ ছাড়া গত তিন মাসে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল, এমন শ্রমিকের সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি।

বাংলাদেশ থেকে গড়ে ৫০ থেকে ৬০ হাজারের মতো মানুষ প্রতি মাসে বিদেশে কাজের জন্য যায়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশটি যায় সৌদি আরবে। দেশটিতে গত জানুয়ারি মাসেও গেছে অন্তত ৫২ হাজার বাংলাদেশি, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪ হাজার আর মার্চে ফ্লাইট বন্ধের আগ পর্যন্ত গেছে ৩৮ হাজার মানুষ।

সম্প্রতি সৌদি আরবের ইংরেজি দৈনিক সৌদি গেজেটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মহামারির কারণে এ বছর সৌদির শ্রমবাজারে ১২ লাখ বিদেশি কর্মী চাকরি হারাবে। প্রতিবেদনটিতে একটি স্থানীয় গবেষণা সংস্থার বরাত দিয়ে বলা হয়, নির্মাণ খাত, পর্যটন (হজ), রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন খাতে এ চাকরিচ্যুতি ঘটতে পারে।

তবে, বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সৌদি আরবের রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে, যেন সেখানে বাংলাদেশি কর্মীরা বিপদে না পড়ে।

জানা গেছে, যাদের বৈধ পাসপোর্ট এবং আকামা রয়েছে, তাদের চুক্তি যেন বহাল থাকে সেজন্য জেদ্দা-রিয়াদে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আন্তমন্ত্রণালয় আলোচনা চলছে।