৭টি আমলের সওয়াব মৃত্যুর পরেও জারি থাকবে

dreamstime_s_48139883

মৃত্যুর পরে আমল করার কোনো ক্ষমতা মানুষের থাকে না। সে দুনিয়াতে যা আমল করেছে তা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এমন কিছু আমল রয়েছে যেগুলি জীবিত অবস্থায় করলে মৃত্যুর পরও সেগুলির সওয়াব মৃত ব্যক্তি পেতে থাকেন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেন, “আমিই তো মৃতকে জীবিত করি, আর লিখে রাখি যা তারা সম্মুখে প্রেরণ করেছে এবং যা তারা পিছনে রেখে গেছে।” (আল কুরআন-৩৬:১২)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার যাবতীয় আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমলের সওয়াব জারি থাকে। সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যার দ্বারা উপকৃত হওয়া যায় ও এমন নেক সন্তান- যে তার জন্য দু’আ করে।” (মুসলিম)

হাদিস থেকে এরূপ আরও কয়েকটি আমলের সন্ধান পাওয়া যায় যেগুলির সওয়াব মৃত্যুর পরও ব্যক্তি পেতে থাকে। সেগুলি সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলঃ

ইলম শিক্ষা দেয়া

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কাউকে ইলম শিক্ষা দিলো, এই ইলম অনুযায়ী আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায় যুক্ত হতে থাকবে। অথচ কারো সওয়াবে কমতি হবে না।’ (ইবনে মাজাহ)

নেক সন্তান রেখে যাওয়া

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর ৪টি আমলের সাওয়াব অব্যাহত থাকে। ১) ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দিলে, ২) ভাল কাজ চালু করার পর কেউ তা অনুসরণ করলে, ৩) সদকায়ে জারিয়া ৪) এমন নেক সন্তান যে তার জন্য দু’আ করে।” (মুসনাদে আহমদ)

কুরআন বিতরণ করা

কোনো ব্যক্তি যদি মসজিদ, মাদরাসা বা কোনো প্রতিষ্ঠানে কুরআন মাজিদ বিতরণ করে তাহলে সেগুলি যতদিন তিলাওয়াত হতে থাকবে তার সাওয়াবের অংশ সে পেতে থাকবে।

উপকারী বৃক্ষ রোপণ করা

হাদিসে এসেছে, “কোনো মুসলিম যদি কোন বৃক্ষরোপণ করে, আর তা থেকে কেউ ফল খায় তবে সেটি তার জন্য সদকাস্বরূপ, যদি কেউ চুরি করে খায় তবুও তা তার জন্য সদকা, কোনো পাখি তা ভক্ষণ করলেও তা তার জন্য সদকা।” (মুসলিম)

খাবার পানির ব্যবস্থা করা

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “এক লোক রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, তার খুব পানির পিপাসা পেল, পথিমধ্যে সে একটি কূপ দেখতে পেল এবং সেখান থেকে পানি পান করল। অতঃপর দেখতে পেল একটি কুকুর পানির পিপাসায় ময়লা খাচ্ছে, তখন সে সেখানে মোজা দিয়ে পানি ভরে কুকুরকে পানি পান করাল এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করল। এজন্য আল্লাহ তা’আলা তাকে মাফ করে দিলেন।” সাহাবায়ে কিরাম অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! প্রাণীকে পানি পান করালেও কি সাওয়াব আছে?” রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “প্রত্যেক জীবিত প্রাণকে পানি পান করানোর মধ্যেই সাওয়াব রয়েছে।” (বুখারি)

সীমান্ত রক্ষা করা

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা অবস্থায় মারা যায়, তাহলে সে যে কাজ করে যাচ্ছিল তার সওয়াব তার মৃত্যুর পরও জারি থাকবে, তার রিযিকও জারি থাকবে, কবরের কঠিন পরীক্ষা থেকে সে নিরাপদ থাকবে এবং আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিবসে তাকে ভয় থেকে মুক্ত অবস্থায় উঠাবেন।” (ইবনে মাজাহ)

অপর এক হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মৃত্যুর পর প্রত্যেকের কর্মের ধারা শেষ হয়ে যাবে। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্ত পাহারা দেয় তার আমল কিয়ামত অবধি জারি থাকবে এবং কবরের ভয়াবহ ফিতনা থেকেও সে নিরাপদে থাকবে।” (ইবনে হিব্বান)

দ্বীনি কিতাবাদি রচনা করা

এমন বইপত্র বা কিতাব রচনা করা, যার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণ ও উপকার সাধন হয়, মানুষ সঠিক পথের দিশা পায়, আল্লাহ ভোলা মানুষ আল্লাহকে চিনে যায় সেগুলি সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, ভাল কাজের পথপ্রদর্শনকারী এই ব্যক্তি এসকল কাজ সম্পাদনকারীর অনুরূপ সওয়াব পাবে। (তিরমিযী)

এসকল আমল সাধারণভাবে সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত। সদকা শব্দের অর্থ দান করা। আর জারিয়া অর্থ অব্যাহত। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে শরিয়তসম্মত কোনো কল্যাণকর কাজে দান করা বা এমন কোনো কাজের সূচনা করে যাওয়া যার কল্যাণকর ফলাফল মানুষ ভোগ করতে থাকে সেগুলির সওয়াব মৃত্যুর পরেও অব্যহত থাকবে।

আল্লাহ তা’আলা আমাদের সর্বদা উত্তম আমল ও মানবতার জন্য কাজ করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের সকল আমল কবুল করে নিন। আমীন।