৭২ বছর পর ব্রিটেনে গচ্ছিত নিজামের ৩২৪ কোটি টাকার সম্পত্তি ফেরত পেল ভারত

বিশ্ব Tamalika Basu ১৫-ফেব্রু.-২০২০
treasure
Old wooden chest full of golden coins and jewelry. Pirate treasure, diamonds, pearls, crown, dagger. Hand drawn cartoon vector illustration isolated on white background. Money finance wealth concept.

সাত  দশকের বেশি সময় ধরে ব্রিটেনের লন্ডন ব্যাঙ্কে তালাবন্ধ হয়ে পড়ে ছিল হায়দরাবাদের নিজামের প্রায় ৩২৪ কোটি টাকার সম্পত্তি। এর মালিকানা স্বত্ত্ব নিয়ে দীর্ঘ মামলার পরে ভারতের জয় হয়েছে তাতে। আর লন্ডনে অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের হাতে এসে পৌঁছেছে সেই বহুমূল্য সম্পদ।

ভারত বিভক্ত হওয়ার পর পাকিস্তান গঠিত হয়। সেই সময় (১৯৪৮) দেশীয় রাজ্য হায়দরাবাদ ভারতভুক্ত হয়। নিজামরা সে সময় অন্যান্য দেশীয় রাজাদের চেয়ে তো বটেই– বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ধনী শাসকদের চেয়েও বিত্তবান ছিলেন। হাসপাতাল– বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি নানা জনকল্যাণমূলক কাজে অকাতরে অর্থব্যয় করতেন নিজামরা। আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে নিজামদের সম্পত্তি ওয়াকফ প্রপার্টি হিসেবে রয়েছে।  ভারতভাগের সময় বিক্ষিপ্ত পরিস্থিতিতে তৎকালীন নিজাম মির ওসমান আলি খান ব্রিটেনে নিযুক্ত পাকিস্তান হাই কমিশনারের নিকট ১ কোটি ৭ হাজার পাউন্ডের বেশি অর্থসম্পদ আমানত রাখেন। সেই অর্থ এখন বৃদ্ধি পেয়ে ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩২৪ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশভাগের পর নিজামের এই অর্থসম্পত্তি ব্রিটিশ আদালতে নিজেদের বলে দাবি করে পাকিস্তান। তখন হায়দরাবাদের নিজামের পরিবার মামলা করে। নিজামের দুই প্রধান উত্তরাধিকারী অষ্টম নিজাম মোকাররম জাহ ও তাঁর ছোট ভাই মুফফাখাম জাহ ভারতের পক্ষ নেন। এই মোকাররম জাহ ১৯৮০ পর্যন্ত ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি এখন তুরস্কে বসবাস করেন। দীর্ঘ ৭২ বছর মামলা চলার পর গত বছরের অক্টোবরে লন্ডনের রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারপতি মার্কাস স্মিথ জানান, সপ্তম নিজাম এই সম্পত্তির অধিকারী। সেই হিসেবে ভারত সরকার ও নিজামের উত্তরাধিকারীরাই এই সম্পদ পাবে। নিজামের সম্পত্তির দাবিদার যে তারা, এর স্বপক্ষে পাকিস্তান কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেনি। পাকিস্তান দাবি করেছিল, ভারত হায়দরাবাদ রাজ্যটিকে অবৈধভাবে অধিকার করেছে। কিন্তু এই যুক্তি ধোপে টেকেনি আদালতে। লন্ডনের আদালত নিজামের সম্পদে পাকিস্তানের অধিকার নস্যাৎ করে দেয়।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থ এতদিন গচ্ছিল ছিল লন্ডনের ন্যাশনাল ওয়েস্টমিনস্টার ব্যাঙ্কে। বৃহস্পতিবার এই অর্থ ভারতের কাছে হস্তান্তরিত হয়। মামলার খরচের দরুন ভারত সরকার ও দুই শাহজাদাকে ২৬ কোটি টাকা দিতে হয়েছে পাকিস্তানের তরফ থেকে।