রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের জন্য উপকারী টিপস (২য় ও শেষ পর্ব)

উৎসব Contributor
ফিচার
রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি
© Akesin | Dreamstime.com

মহিমান্বিত ও পবিত্র রমযান মাস আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। আর কিছুদিন পরেই আল্লাহ তা’আলার বিশেষ রহমত, বরকত, মাগফিরাত আর নাজাতসহ প্রভূত কল্যাণের মাস রমযানুল মোবরক শুরু হবে।

পবিত্র রমযানের প্রভূত বরকত ও কল্যাণ পেতে হলে পূর্ব থেকেই পবিত্র রমযানের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিতে হবে। এই প্রস্তুতি সম্পর্কে বিগত পর্বে কিছু টিপস শেয়ার করা হয়েছে। এই পর্বেও বাকি টিপসগুলি শেয়ার করা হল-

রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ পূর্বের কাজা রোযা আদায় করা

পবিত্র রমযান শুরু হওয়ার আগেই বিগত জীবনে অসুস্থ হওয়া বা সফরের দরুণ রমযানের রোযা কাজা হয়ে থাকলে তা যথাযথভাবে আদায় করে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে মহিলাদের মাসিকের দরুণ ভাঙতি রোযা থাকতে পারে। তাই রমযানের আগে শাবান মাসেই এসকল কাজ রোযা আদায় করে নেওয়া উচিত। এতে করে দু’টি উত্তম আমল বাস্তবায়িত হবে-

প্রথমতঃ বিগত জীবনের কাজা রোযা আদায় হয়ে যাবে। এতে করে রমযানের রোযা পালনের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

দ্বিতীয়তঃ সুন্নতের অনুসরণ হবে। পূর্বেই বলা হয়েছে যে, রমযানের আগের মাস শাবানে রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বেশি বেশি নফল রোযা রাখতেন। কাজা রোযা আদায় করার মাধ্যমে এই সুন্নতটির অনুসরণও হয়ে যাবে।

আল্লাহর সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করা রমযানে

আল্লাহ তা’আলা রমযান মাসে অনেক মানুষকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। তবে এ সাধারণ ক্ষমা সকলের ভাগ্যে জুটে না। কেননা এ ক্ষমা পেতে হলে দুইটি কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

১) শিরক থেকে মুক্ত থাকতে হবে। ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছায় আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরীক সাব্যস্ত করে থাকলে রমযান আসার আগেই তা থেকে তওবা-ইসতেগফারের মাধ্যমে ফিরে আসতে হবে।

২) হিংসা থেকে মুক্ত থাকতে হবে। কারও কোনো বিষয়ে হিংসা করা যাবে না। কারণ হিংসা মানুসের সব নেক আমলকে এভাবে জ্বালিয়ে দেয়; যেভাবে আগুন কাঠকে জ্বালিয়ে দেয়। তাই হিংসা পরিহার করে মনকে ক্ষমা লাভে স্বচ্ছ রাখতে হবে।

রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ বিগত রমযানের ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করা

মনে রাখবেন, রমযান মাস আসার আগে বিগত রমযানের নেক আমলগুলো করতে না পারার কারণগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করতে হবে। যেমন- কেন নিয়মিত কুরআন অধ্যয়ন করা হয়নি? কেন নিয়মিত তারাবিহ পড়া হয়নি? কেন দান-সদকা করা হয়নি? কেন ইতেকাফ করা হয়নি? ইত্যাদি বিষয়গুলো চিহ্নিত করে নিতে হবে। এ বছর রমযান আসার আগে থেকেই চিহ্নিত এই বিষয়গুলি থেকে নিজেকে বিরত রেখে কিংবা প্রস্তুতি গ্রহণ করে কল্যাণকর সব নেক আমলগুলো করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে।

২৪ ঘণ্টার রুটিন তৈরী করা রমযানের পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ 

এই রমযান মাসজুড়ে যে যেই কাজেই থাকুক না কেন, পুরো সময়টি কোন কাজে কিভাবে ব্যয় করবে তার একটি সম্ভাব্য রুটিন তৈরি করে নেওয়া উচিত। আগে থেকেই রুটিন করা থাকলে রমযানে চরম ব্যস্ততার মাঝেও নেক আমলসহ অন্যান্য কাজগুলোও ইবাদতের মধ্যেই কেটে যাবে। এক কথায় সব কাজের তালিকা করে নিলে এই রমযান ও অন্যান্য রমযানের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য আপনার নজরে আসবে।

রমযানের চাঁদ অনুসন্ধান করা

শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমযানের চাঁদ অনুসন্ধান করা এবং চাঁদ দেখতে পেলে দু’আ পড়া সুন্নত। প্রত্যেক মুসলমানেরই উচিত হারিয়ে যাওয়া এই সুন্নতটিকে আবারও জীবিত করার পূর্ব পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

বর্তমান সময়ে চাঁদ দেখা কমিটি বা হেলাল কমিটির দিকে তাকিয়ে থাকা একটি রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। অনেকেই রেডিও বা টিভির সংবাদের অপেক্ষা করেন যে, চাঁদ দেখা গেল কিনা। এতে চাঁদ দেখা এবং দু’আ পড়ার গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত থেকে বঞ্চিত হয় মুসলমানরা। এই রেওয়াজ থেকে বেরিয়ে এসে চাঁদ অনুসন্ধান করার সুন্নতটি পূনরায় জীবিত করার জন্য প্রত্যেকের সর্বাত্মক পূর্বপ্রস্তুতি রাখা উচিত।

আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দু’আ করা ও তাওফিক কামনা করা

রমযান মাসে যাতে সুস্থতার সাথে যথাযথভাবে ইবাদত করা যায়, এজন্য এখন থেকেই মহান আল্লাহর নিকট তাওফিক কামনা করতে হবে। বেশি বেশি করে তওবা ও ইস্তিগফার করার মাধ্যমে দেহ ও মনকে পাক-সাফ করে মহান রবের দরবারে দাঁড়াবার উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।

রমযানের আগে আল্লাহর কাছে সর্বদা এ প্রার্থনা করতে হবে, “হে আল্লাহ! আমি যতই চেষ্টা করি না কেন, তোমার তাওফিক বা ইচ্ছা না থাকলে আমি যেমন রমযান পাবো না; তেমনি আবার রমযান পেলেও পরিপূর্ণরূপে এর রবকত লাভে সক্ষম হব না। সুতরাং রমযান ও রমযানে নেক আমল করার তাওফিক তোমার কাছে চাই।”

আল্লাহ তা’আলা যেনো আমাদেরকে রমযান পর্যন্ত হায়াত দেন এবং কাঙ্খিত উপায়ে যেনো রমযান কাটাতে পারি সেই তাওফিক দান করেন। আমীন।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.